দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঠুয়াকাণ্ডে ৮ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ এবং নির্মম ভাবে খুনের অপরাধে ৮ অভিযুক্তের মধ্যে ৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল পাঠানকোটের বিশেষ আদালত। ১৭ মাস পরে ঘোষিত হয়েছে এই রায়। জানা গিয়েছে, দোষীদের মধ্যে রয়েছে, পুলিশ অফিসার দীপক খাজুরিয়া, প্রবেশ কুমার এবং মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জি রাম। এই সঞ্জি রামই ছিল কাঠুয়ার নৃশংস ঘটনার অন্যতম পাণ্ডা। এ ছাড়াও রয়েছে সাব ইনস্পেকটর আনন্দ দত্ত, হেড কনস্টেবল তিলক রাজ, সঞ্জি রামের ছেলে বিশাল এবং তার নাবালক ভাইপো।
গত ৩ জুন পাঠানকোটের বিশেষ আদালতে সাক্ষ্যদান প্রক্রিয়া শেষ হয়। ক্যামেরা বন্দি করে রাখা হয় গোটা প্রক্রিয়া। ১০ জুন রায় দানের দিন ঘোষণা করেন সদর দায়েরা আদালতের বিচারপতি তেজবিন্দর সিং। ঘোষণা অনুযায়ী ১০ জুন সোমবার সকালে কাঠুয়া কাণ্ডে ধৃত ৮ অভিযুক্তের মধ্যে ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে পাঠানকোটের বিশেষ আদালত। মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জি রামের ছেলে বিশালকে ছাড় দিয়েছে আদালত। আর পুরোহিতের ভাইপোর বয়স নিয়ে বিতর্ক থাকায় তাকে বিচার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে সে নাবালক কিনা তা খতিয়ে দেখবে জম্মু-কাশ্মীরের হাইকোর্ট। তারপরই তাকে এই মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা তা ঠিক করা হবে। বাকি ছ'জন দোষীর বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে চার্জশিট জমা পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরের মধ্যে থাকা সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্য প্রধান পুরোহিত সঞ্জি রামের থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছিল সাব ইনস্পেকটর আনন্দ দত্ত, হেড কনস্টেবল তিলক রাজ।
এ দিন সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় পাঠানকোটের বিশেষ আদালত চত্বর। কোনওরকম অশান্তি এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, এই ছ'জন দোষী ন্যূনতম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা এবং সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেতে পারে। যে সমস্ত ধারায় চার্জশিট জমা পড়েছে তাতে ফাঁসির সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবী মহলের একটা বড় অংশ।
২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি এক ভয়ঙ্কর খবর কেঁপে গিয়েছিল গোটা দেশ। উদ্ধার হয়েছিল ৮ বছরের এক কিশোরীর একেবারে ক্ষতবিক্ষত দেহ। জানা গিয়েছিল, জম্মুর কাছে কাঠুয়া জেলায় একটি মন্দিরে চারদিন ধরে (১০ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি) আটকে রাখা হয়েছিল ওই কিশোরীকে। চলেছিল লাগাতার ধর্ষণ। সঙ্গে নির্মম অত্যাচার। নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল ওই কিশোরীকে। ঘটনার তিনদিন পর ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার হয় কিশোরীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছিল, মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে কিশোরীর উপর টানা চারদিন ধরে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। বাচ্চাটিকে খেতেও দেওয়া হয়নি। এরপর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাকে। এবং সে মারা যাওয়ার পর দেহ যাতে চিনতে পারা না যায় সে জন্য পাথর দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল কিশোরীর মুখ।
এই নৃশংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সারা দেশ। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখন দোষীদের আদালত কী রায় দেয় সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-horrific-kathua-rape-and-nationwide-outrage/