দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাসের বেশি সময় ধরে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। এই আন্দোলন এবার দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পা দিয়েছে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায়। তাতে বিতর্ক আরও বেড়েছে। দেশের ঐক্য বজায় রাখার বার্তা গতকালই দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই একই বার্তা এবার শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। বললেন, দেশের ঐক্য ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার শপথ সবাইকে নিতে হবে।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় চৌরিচৌরা ঘটনার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের সূচনা করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে যে আমাদের কাছে দেশের ঐক্য ও সম্মান সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই শপথ নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
সদ্য পেশ হওয়া বাজেটের কথাও তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। এই বাজেটে কৃষকদের জন্য অনেক কিছু ভাবা হয়েছে বলেই জানান তিনি। মোদী বলেন, “এই বাজেটে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা কৃষকদের আরও বেশি আত্মনির্ভর করে তুলবে ও কৃষি ক্ষেত্রে আর্থিক লাভ আরও বাড়াবে। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি যেসব কৃষকদের অল্প জমি রয়েছে সেই জমি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তার ফলে আমাদের ক্ষুদ্র চাষিরাও অনেক লাভবান হবেন।”
তাঁর সরকার যে সবসময় কৃষকদের পাশেই থেকেছে সেই কথা আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কিষাণ ভাইরা আমাদের সবথেকে বড় শক্তি। চৌরিচৌরাতে কৃষকরা বড় ভূমিকা নিয়েছিল। গত ছয় বছর ধরে আমরা কৃষকদের উন্নতির চেষ্টা করে গিয়েছি। সেই প্রচেষ্টার ফল করোনার মধ্যে দেশবাসী দেখতে পেয়েছেন। অতিমারীর মধ্যেও রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে।”
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, চৌরিচৌরার ঘটনাকে মনে রাখার জন্য বছর ভর বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন ইউনাইটেড প্রভিন্সের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরাতে ১৯২২ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি ইংরেজদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গুলি চালালে তার জবাবে একটি থানায় আগুন লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনায় আগুনে পুড়ে তিনজন সাধারণ মানুষ ও ২৩ পুলিশকর্মী মারা যায়। এই ঘটনায় ব্যথিত হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন গান্ধীজি। আগামী বছর এই ঘটনার ১০০ বছর পূর্তি। সেই অনুষ্ঠানেরই সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী।