দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালে স্ট্রেচারের উপর সাদা চাদরে ঢাকা কিশোরীর দেহ পড়ে রয়েছে। আর সেই দেহ খুবলে খাচ্ছে একটি পথ-কুকুর। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সামনে এসেছে। আর তাতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি পথ দুর্ঘটনায় আহত হয় ওই কিশোরী। তারপরেই তার দেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
সম্প্রতি একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি সাদা কাপড়ে ঢাকা রয়েছে কিশোরীর দেহ। আশেপাশে কেউ নেই। একটি পথ-কুকুর এসে সেই দেহ খুবলে খাচ্ছে। কিন্তু কুকুরকে সেখান থেকে কেউ সরিয়েও দিচ্ছে না। যদিও ভিডিওতে কয়েকজনের গলার আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে।
এই ঘটনার পরে কিশোরীর পরিবারের তরফে হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করা হয়। কিশোরীর বাবা চরণ সিং জানিয়েছেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ওভাবেই পড়ে ছিল মেয়ের দেহ। এটা হাসপাতালের গাফিলতি।”
https://twitter.com/samajwadiparty/status/1331984795283275777?s=19
সংবাদসংস্থা এএনআইকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে সত্যিই পথ-কুকুরের খুব সমস্যা রয়েছে। তারা এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকেও জানিয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ প্রশাসন নেয়নি। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে কোনও দায় নেয়নি তারা।
হাসপাতালের সুপার ডাক্তার সুশীল বর্মা জানিয়েছেন, “সব প্রক্রিয়া হয়ে যাওয়ার পর দেহ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবারকে। হতে পারে কোনও সময় তারা দেহ ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়েছিল। তখনই এই ঘটনা ঘটেছে।”
এই ভিডিও সমাজবাদী পার্টির তরফেও প্রকাশ করা হয়। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, এই ঘটনার পরে একজন সুইপার ও এক ওয়ার্ড বয়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে খবর।
হাসপাতালের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্তে বোঝা গিয়েছে একজন সুইপার ও এক ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাদেরও অনেক দেহ নিয়ে কাজ করতে হয়। অবশ্য আমরা ওদের সাসপেন্ড করেছি। সেইসঙ্গে জরুরি বিভাগে যে ডাক্তার ছিলেন তাঁর কাছে জবাবদিহিও চাওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছি আমরা।”