দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর প্রথম দিকে হঠাৎ করেই শিরোনামে এসেছিল তবলিঘি জামাত। দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে জামাত সদস্যদের জমায়েত ঘিরে ভারতে হঠাৎ করেই সংক্রমণ মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। নিজামুদ্দিন এলাকার একটি বাড়ি থেকে জামাত সদস্যদের বের করে এনে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় কেন্দ্র। এই জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন কয়েক হাজার বিদেশি সদস্যও। তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেন জামাতের সাত বিদেশি সদস্য।
জানা গিয়েছে, এই সাত ব্যক্তির মধ্যে দু’জন তাইল্যান্ডের এবং একজন করে কেনিয়া, মালি, মরক্কো, টিউনিসিয়া ও মালয়েশিয়ার বাসিন্দা। তাঁরা দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁদের যেন কালো তালিকা থেকে বের করা হয়। কারণ, তা না হলে ১০ বছর ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনে বলা হয়েছে, “২০২০ সালের ২ এপ্রিল ৯৬০ বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ২০২০ সালের ৪ জুন প্রায় ২৫০০ বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা ভঙ্গ করা হয়েছে। কারণ, যাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি, বা এই সংক্রান্ত কোনও নোটিস তাঁদের দেওয়া হয়নি।”
দিল্লিতে জামাতের জমায়েতে অংশ নিতে ভারতে এসেছিল প্রায় ২৫০০ বিদেশি। তাদের সবাইকেই কালো তালিকাভুক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই জমায়েতের জন্য জামাত প্রধান মৌলানা সাদ কান্দালভির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলাও আনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মার্চ মাসে দিল্লির এই জমায়েতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, তাইল্যান্ড, কেনিয়া, মালি, মরক্কো, টিউনিসিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে তবলিঘি জামাত সদস্যরা এসে অংশ নেন। তাঁদেরকে একটি ছ’তলা বাড়িতে রাখা হয়। কিন্তু এই জমায়েত থেকেই হঠাৎ করে দিল্লিতে সংক্রমণ বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতে ১৫ হাজারের বেশি সংক্রমণ বেড়ে যায়। প্রশাসন জানায়, তাদের না জানিয়েই এই জমায়েত করা হয়েছিল। তাই বিদেশ থেকে আসা সদস্যদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধেই এবার আবেদন করা হল সুপ্রিম কোর্টে।