দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইকে মিনি পাকিস্তান বলার পরে মহারাষ্ট্র সরকারের ফতোয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের বাবা। হিমাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে আবেদন করেন তিনি। তারপরেই সোমবার জানা যায় কেন্দ্রের তরফে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে কঙ্গনাকে। নিরাপত্তা দেওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান কঙ্গনা। তারপরেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে শিবসেনা। প্রতাপ সারনায়েক নামের এক বিধায়ক দাবি করেছেন, মহারাষ্ট্র সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে দাউদ ইব্রাহিমকেও নিরাপত্তা দেবে কেন্দ্র।
প্রতাপ সারনায়েক জানিয়েছেন, “যদি মহারাষ্ট্র সরকার মোস্ট ওয়ান্টেড দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে কিছু বলে, তাহলে আগামীকাল তাকেও নিরাপত্তা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের খালি মহারাষ্ট্র সরকারের বিরোধিতা করতে হবে।”
বিধায়ক আরও জানিয়েছেন, “মহারাষ্ট্রের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কত ভালবাসা রয়েছে তা সবাই জানে। মহিলা কমিশন উত্তরপ্রদেশ, বিহারে ধর্ষণের ঘটনা দেখতেও পায় না। আজ জানা যাচ্ছে কঙ্গনাকে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আজকের দিনেও মুম্বই পুলিশকে কঙ্গনা ভরসা করতে পারছেন না। আমাদের পুলিশ সবসময় কাজ করছে। অনেকে করোনাভাইরাসের জন্য মারাও গিয়েছেন। কিন্তু এখনও তাদের কেউ ভরসা করছে না।” মুম্বই ও মহারাষ্ট্রকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করার জন্য তিনিও কঙ্গনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি করেছেন।
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য বিজয় বাদেত্তিওয়ার বলেছেন, বিজেপির সাহায্য পেয়েই ক্রমাগত মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলছেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, “কঙ্গনার বিষয়ে মহারাষ্ট্র বিজেপির উচিত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। মহারাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ করেছেন, সেটা কি বিজেপি সমর্থন করে।”
ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পাওয়ায় এখন থেকে ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী পাবেন কঙ্গনা। তার মধ্যে একজন বা দু’জন কম্যান্ডো ও বাকিরা পুলিশ আধিকারিক। কেন্দ্রের তরফে এই নিরাপত্তার কথা স্বীকার করে টুইট করে কঙ্গনা বলেন, “এটা প্রমাণ করে যে এবার থেকে দেশভক্ত আওয়াজকে কোনও ফ্যাসিবাদী শক্তি দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমি অমিত শাহজিকে ধনহ্যবাদ জানাই। কারণ এই পরিস্থিতিতে তিনি বলতেই পারতেন কয়েক দিন পরে মুম্বই যেতে। কিন্তু দেশের মেয়ের কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। আমাদের আত্মসম্মানকে সম্মান দিয়েছেন। জয় হিন্দ।”
এদিকে সোমবার বিকেলে কঙ্গনা অভিযোগ করেছেন, পশ্চিম মুম্বইয়ের খার এলাকায় থাকা তাঁর অফিস মণিকর্নিকা ফিল্মস দখল করে নিয়েছে বিএমসি কর্মীরা। আগামীকাল তা ভেঙে ফেলা হবে। কোনও বেআইনি কাজ তাঁর অফিসে হয় না এবং সব ধরনের কাগজ তাঁর কাছে রয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি।
এর মধ্যেই আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে যাওয়ার কথা কঙ্গনার। এখন দেখার এই ঘটনা নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোন দিকে মোড় নেয়।