দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে সব রাজ্যে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলেই তাদের রাখা হয়েছে সেইসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে কটাক্ষ করায় গ্রেফতার করা হল অসমের বিধায়ককে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় অসমের বিরোধী দলের বিধায়ক আমিনুল ইসলাম এইসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “অসমের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি ডিটেনশন ক্যাম্পের থেকেও ভয়ঙ্কর ও খারাপ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অসমের মুসলিম নাগরিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এইসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে। গত মাসে নিজামুদ্দিনের জমায়েত থেকে ফেরা মুসলিমদের জোর করে ইঞ্জেকশন দিয়ে অসুস্থ করে করোনা আক্রান্ত বলে এখানে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের নেতা আমিনুল ইসলাম অসমের নগাঁও জেলার ধিং বিধানসভার বিধায়ক। এই মন্তব্যের পরেই সোমবার তাঁকে আটক করে অসম পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আইনত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় ওই বিধায়ক স্বীকার করেছেন, অডিওতে গলাটি তাঁর। তাঁর ফোনেও ওই অডিও ক্লিপটি পাওয়া গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, আমিনুল ইসলামকে কোর্টে তোলা হলে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অসমের পুলিশ প্রধান ভাস্কর জ্যোতি মাহাতো জানিয়েছেন, বিধানসভার স্পিকারকে এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে। এর আগেও অনেকবার এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য ওই বিধায়ক করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অসমে দুটি স্টেডিয়ামকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলেছে সরকার। এই সেন্টারে মোট ২০০০ মানুষ একসঙ্গে থাকতে পারবেন। রাজ্যের ৩৩টি জেলাকে বলা হয়েছে, কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে এই সেন্টারে নিয়ে আসতে। এখানে রেখেই চিকিৎসা করা হবে তাঁদের।