দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আতঙ্কে এবার বন্ধ হতে চলেছে রাজধানী শহরের স্কুল-কলেজ এবং সিনেমা হল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দিল্লির সমস্ত সিনেমা হল। যেসব কলেজ এবং স্কুলে এখন পরীক্ষা চলছে না সেগুলোও বন্ধ রাখা হবে।
বিশ্ব জুড়ে ত্রাস তৈরি করেছে এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-ও করোনাভাইরাসকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। চিনের উহান শহর এই ভাইরাসের উৎসস্থল হলেও ক্রমশ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। ইতালি, ইরান ও অন্যান্য দেশের পাশাপাশি করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছে ভারতেও। ইতিমধ্যেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৩ জন।
এদিকে বুধবার করোনা আতঙ্কের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের পাঁচ জেলার সমস্ত প্রাইমারি স্কুল, সিনেমা হল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, রেসাই এবং উধমপুর এই পাঁচ জেলায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সমস্ত প্রাইমারি স্কুল, সিনেমা হল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। বুধবার একথা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান সচিব (পরিকল্পনা) রোহিত কানসল। দিন দুয়েক আগেই জম্মু-কাশ্মীরে এক করোভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছিল ৬৩ বছরের এক মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ইরানে গিয়েছিলেন। গত সোমবার হোলির দিন প্রকাশ্যে এসেছিল এই খবর।
এর পাশাপাশি ভারত সরকারও ঘোষণা করেছে, এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সমস্ত দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত করা হবে। নতুন ভিসাও এখন দেওয়া হবে না কাউকে। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে টুইট করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। টুইটারের ওই পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, কূটনৈতিক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের ভিসা বাদে ভারতের অন্য সব ধরনের ভিসা ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারীরা যে এতদিন ভিসা ছাড়াই এ দেশে প্রবেশাধিকার পেতেন, সে সুবিধাও আপাতত স্থগিত করেছে সরকার।
এছাড়াও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই বাইরে থেকে ভারতে আসা ব্যক্তিদের অন্তত ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন করা হতে পারে। এবং ১৫ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে চিন, ইতালি, কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি ভ্রমণ করা ভারতীয় নাগরিকদের অন্তত ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন করা হবে। অনুরোধ করা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন না থাকলে যেন ভারতে আসা থেকে বিরত থাকেন সকলে। আকাশপথ ছাড়াও সড়ক পথে অন্য দেশ থেকে আসা রুখতে নির্দিষ্ট চেকপোস্টগুলিতে কড়াকড়ি করা হয়েছে, সেখানেও ব্যাপক ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আলাদা ভাবে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।