দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও বঙ্গোপসাগরে, কখনও ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। সাবমেরিন নিয়েও টহল দিচ্ছে চিনের নৌসেনা। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপের কাছেও চিনের নজরদারি জাহাজকে ঘুরঘুর করতে দেখা যাচ্ছে। ধরা পড়েছে উপগ্রহচিত্রে।
ভারত মহাসাগরে আন্দামান সীমান্তের খুব কাছে এত ঘন ঘন চিনা নৌবাহিনী জাহাজ দেখে চিন্তিত নয়াদিল্লি। ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, চিনা জাহাজগুলি সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছে। চিন আগে কখনও নিজেদের জলসীমার বাইরে যুদ্ধজাহাজ বা নজরদারি জাহাজ খুব একটা পাঠাত না। কিন্তু, ২০০৮ সালে এডেন উপসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের উপদ্রব বাড়লে চিনের নৌবাহিনীও ওই এলাকায় যাতায়াত শুরু করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্তারা বলছেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের মোকাবিলার জন্য এত বড় ব্যবস্থার দরকার নেই। আসল উদ্দেশ্য এই তল্লাটের সাগরের সঙ্গে নিজের জাহাজ ও কম্যান্ডার-ক্যাপ্টেনদের পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করা।নচিনের জাহাজগুলি দক্ষিণ চিন সাগর, আন্দামান সাগর, বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছয়। তার পর এডেন উপসাগর থেকে ভূমধ্য সাগর, আরব সাগর হয়ে আটলান্টিকের পানামা পর্যন্ত যায়। ওই পথ দিয়েই পরে ফিরে আসে।
https://twitter.com/detresfa_/status/1350672162693152768
উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে ইদানীং, চিনের জিয়াং ইয়াং হং নজরদারি জাহাজগুলি ভারত মহাসাগরের পূর্ব দিকে টহল দিচ্ছে। গত দুবছর ধরে জিয়াং ইয়াং হং ০১,০২,০৩,০৬ ও ১৯ জাহাজগুলি ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা আছে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মাঝখান দিয়ে যে পথ তাকে বলা হয় ১০ ডিগ্রি চ্যানেল। আর গ্রেট নিকোবর দ্বীপের দক্ষিণে যে পথ, তাকে বলা হয় ৬ ডিগ্রি চ্যানেল। এই দু’টি পথ থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে। আগে চিনা যুদ্ধজাহাজ যেত ৬ ডিগ্রি চ্যানেল দিয়ে। এখন চিনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে ১০ ডিগ্রি চ্যানেল, যা চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। এর আগে বহুবার ওই বিশেষ এলাকা ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে চিনের একাধিক রণতরীকে। এইসব রণতরীগুলির সঙ্গে বেশিরভাগ সময়েই থাকে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক। কৌশলে নজর এড়িয়ে হানা দেয় চিনা সাবমেরিনও।
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশের অবশ্য ব্যাখ্যা, ভূ-রাজনৈতিক ভাবে ও ব্যবসায়িক দিক থেকে ভারত মহাসাগরের ওই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ২০০৮ সাল থেকেই সেখানে প্রভাব বিস্তার করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছে বেজিং।
গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে আটটিরও বেশি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চিন। যার মধ্যে পরমাণু শক্তিচালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজও ছিল। কলম্বো এবং করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল ডুবোজাহাজগুলিকে। ভারতের পি-৮১ অ্যান্টি সাবমেরিন নজরদার বিমানের মাধ্যমে ধরা পড়েছিল সেগুলি। এমনও হয়েছে এক একটি ডুবোজাহাজ প্রায় একমাস করে কাটিয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র আরও বলছে, প্রতিবার রণতরী বা সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় না চিন। বরং নজর এড়াতে পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় তারা। ২০১৭ সালে ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চোংমিংদও।