দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ে মাওবাদী হামলা চলছেই। এ বার মাওবাদীদের গুলিতে নিহত হলেন সমাজবাদী পার্টি নেতা। বুধবার সকালে ছত্তীসগড়ের বিজাপুর জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা মারিমাল্লা গ্রাম থেকে অপহরণ করা হয় সমাজবাদী পার্টি নেতা সন্তোষ পুনেমকে। অ্যান্টি নক্সাল অপারেশনস-এর ডিআইজি সুন্দেরাজ পি জানিয়েছেন, "রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও মারিমাল্লা গ্রামে কন্ট্রাক্টর ছিলেন সন্তোষ পুনেম। কনস্ট্রাকশন সাইট থেকেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে অপহরণ করা হয়। বুধবার সকালে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।" তিনিব আরও জানিয়েছেন, "এই ঘটনা ঘটেছে পুলিশ স্টেশন থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের মধ্যে। আমরা পুলিশ দলকে পাঠিয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে আরও কিছু জানা যায় কিনা তার চেষ্টা চলছে।"
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ছত্তীসগড়ের বিজাপুর থেকে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লড়েছিলেন সন্তোষ। বাস্তারের বিজাপুর জেলার সপা সভাপতিও ছিলেন সন্তোষ।
এপ্রিলে মাসে বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই ছত্তীসগড়ে লাগাতার হামলা শুরু করে মাওবাদীরা। চতুর্থ দফার নির্বাচনের আগের দিন ছত্তীসগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীদের গুলিতে প্রাণ যায় দুই পুলিশ কর্মীর। জখম হন আরও এক। ভোট শুরুর দু’দিন আগে ৯ এপ্রিল মাওবাদীদের ঘটানো বিস্ফোরণে নিহত হন দান্তেওয়াড়ার বিজেপি বিধায়ক ভীমা মাণ্ডভি। সেই সঙ্গে আরও চার নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ কেজি বিস্ফোরকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বিধায়কের সাঁজোয়া গাড়ি (আর্মার্ড ভেহিকল)। ১১ এপ্রিল, প্রথম দফার ভোটের দিন গড়চিরৌলিতে ভোটকেন্দ্রের কাছে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তাতে কেউ হতাহত হননি। এপ্রিলের শুরুতে ছত্তীসগড়ের কঙ্কর জেলার মহলা গ্রামে মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল চার বিএসএফ জওয়ানের।
মে মাসেও এই রাজ্যে পাঁচবার হামলা চালায় মাওবাদীরা। ১ মে ছত্তীসগড় সীমান্ত লাগোয়া মহারাষ্টের গড়চিরৌলিতে আইআইডি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৬ জনের। আইইডি বিস্ফোরণে উড়ে যায় গড়চিরৌলি পুলিশের একটি গাড়ি। চালক ছাড়াও তাতে ছিলেন সি-৬০ ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর ১৫ জন সদস্য। ওই দিন সকালেই কুরখেড়ায় ১৩৬ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরির জায়গায় ঠিকাদারদের ২৭টি গাড়ি এবং যন্ত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল মাওবাদীরা। সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই টহল দিতে বেরিয়েছিল সি-৬০ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ।