দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে তিনি। লোকসভায় জেতার পরেও বিতর্ক তাঁর পিছু হটলো না। সোমবার সংসদে শপথ নেওয়ার সময়েও বিতর্ক টেনে আনলেন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। নিজের নামের সঙ্গে আধ্যাত্মিক গুরুর নাম যোগ করাতেই এই বিপত্তি হয়।
সোমবার সংসদে সব সাংসদদের শপথ গ্রহণ চলছিল। প্রজ্ঞা সিং সংস্কৃতে নিজের শপথবাক্য পাঠ করা শুরু করেন। প্রথমে নিজের নাম বলার পর তিনি বলেন, স্বামী পূর্ণনন্দ অদ্বেষানন্দ গিরি, যা তাঁর আধ্যাত্মিক গুরুর নাম। এই নাম বলার পরেই কংগ্রেস সাংসদরা প্রতিবাদ শুরু করেন।
কংগ্রেস সাংসদদের প্রতিবাদের পর প্রোটেম স্পিকার বীরেন্দ্র কুমার বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ীই শপথ নিতে হবে প্রজ্ঞাকে। তখন বিজেপি সাংসদ জানান, তাঁর পুরো নাম 'প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর পূর্ণনন্দ অদ্বেষানন্দ গিরি। তিনি এই নাম সংসদের শপথ গ্রহণ করার ফর্মেও লিখেছেন।
এই কথা শোনার পর বীরেন্দ্র কুমার বলেন, নির্বাচনে জেতার পর নির্বাচন কমিশন তাঁকে যে সার্টিফিকেট দিয়েছিল, তাতে কী নাম লেখা ছিল। দেখা যায়, সেখানে নাম রয়েছে প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। এ কথা জানার পর প্রোটেম স্পিকার তাঁকে সেই নামই বলতে বলেন। তারপরেই দেখা যায়, নিজের নাম নিয়েই শপথ নিচ্ছেন প্রজ্ঞা। তিনবারের বার তাঁর শপথ শেষ হয়। সংস্কৃতে শপথ নিয়ে শেষ 'ভারত মাতা কী জয়' বলে শেষ করেন প্রজ্ঞা।
মালেগাঁও বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুর মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে একের পর এক বিষয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। কখনও গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশভক্ত বলেছেন, কখনও শহিদ হেমন্ত কারকারে তাঁর অভিশাপের ফলেই নিহত হয়েছেন বলেন, কখনও বা বলেন গোমূত্র খেয়ে তাঁর ক্যানসার ঠিক হয়ে গিয়েছে। এই সব মন্তব্যের পরেই কংগ্রেসের তরফে প্রতিবাদ করা হয়। এমনকী গডসেকে নিয়ে মন্তব্যের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেন, তিনি প্রজ্ঞাকে কখনও ক্ষমা করবেন না। তারপরেও কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা দিগ্বিজয় সিংকে হারিয়ে সাংসদ হন প্রজ্ঞা।