দ্য ওয়াল ব্যুরো: টয়োটা ক্যামরি চাপতেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজন। কিন্তু দু’বছর যেতে না যেতেই ওই গাড়িতে অস্বস্তি হতে শুরু করে তাঁর। জুতসই লাগছিল না গাড়িটি। তাই সরকারের কাছে আবেদন করেন নতুন গাড়ি দেওয়ার। স্পিকার চড়বেন বলে কথা! সরকারও তাই বেছেবুছে জাগুয়ার সেডান কিনেছিল মহাজনের জন্য। দাম ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। এই লোকসভায় সুমিত্রাদেবী আর স্পিকার নন। তাঁর চেয়ার আলো করেছেন ওম বিড়লা। তিনি তাঁর পছন্দমতো গাড়ি চেয়ে নিয়েছেন সরকারের থেকে। আর প্রায় আধ কোটি টাকা দামের ওই গাড়ি এখন ‘বেওয়ারিশ’ হয়ে পড়ে রয়েছে সংসদের গ্যারাজে।
সুমিত্রা মহাজনকে যে সাদা রঙের জাগুয়ার গাড়িটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি একটি স্পোর্টস কার। লোকসভার অধ্যক্ষের জন্য কেন স্পোর্টস কার কেনা হল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সংসদের সচিবালয় অবশ্য জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই স্পিকারের জন্য ওই গাড়ি কেনা হয়েছিল।
কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতেই ওই মহার্ঘ গাড়ি এখন লোকসভার গ্যারাজের একটি কোণে পড়ে রয়েছে। জমছে ধুলোর স্তর। কারণ এখনকার স্পিকার টয়োটা ক্যামরি হাইব্রিড চাপেন। সেটি নতুন করে কেনা হয়েছে। যার দাম ৩৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা।
মহাজনের জাগুয়ার শুধু মহার্ঘ নয়, তেলে খাওয়ারও রাজা। জানা গিয়েছে এক লিটার তেলে মাত্র ১৩ কিলোমিটার চলত লোকসভার স্পিকারের গাড়ি। এ নিয়ে জাতীয় স্তরের একটি সংবাদমাধ্যমকে সুমিত্রা মহাজন বলেছেন, “গাড়ির ব্যাপারে আমি অত খুঁটিনাটি জানি না। আমি শুধু বুঝি গাড়িতে চেপে আমি স্বচ্ছন্দ কিনা।” তাঁর কথায়, “আমায় দুটি গাড়ি দেখানো হয়েছিল সে সময়ে। আমি তার মধ্যে থেকে একটি পছন্দ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন গাড়িটি এল, তখন দেখলাম যেটা পছন্দ করেছিলাম, তার উল্টোটা কেনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি পিছনের সিটে বসতাম। কিন্তু পা ছড়িয়ে বসা যেত না। বড্ড অল্প জায়গা। কয়েক মাসের মধ্যেই আমি ওই গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করে দিই। আমি জানি না কেন জাগুয়ারই কেনা হয়েছিল।”
তথ্য বলছে, ২০০১ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রত্যেক অধ্যক্ষ নতুন গাড়িতে চেপেছেন। স্পিকারদের জন্য মোট পাঁচটি গাড়ি কেনা হয়েছে এই ১৮ বছরে। ২০০১ সালে কেনা হয়েছিল একটি অ্যাম্বাস্যাডর গাড়ি। সেটির দাম ছিল ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা। তারপর ১৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হয় একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড। এরপর একটি টয়োটা ক্যামরি, একটি জাগুয়ার এবং একটি টয়োটা ক্যামরি হাইব্রিড। আর এই গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, বিলাসিতা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে। অনেকেই বলছেন, লোকসভার অধ্যক্ষের গাড়ি কেনাতেই যদি অপচয়ের পরিমাণ এই হয় তাহলে আরও কোথায় কত না কী হচ্ছে!
পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প