দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ডের নামে ৩২ লাখ মানুষকে প্রতারণা করে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলেছিল এক সংস্থা। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অবশেষে তদন্ত চালিয়ে দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা ৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি।
প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত সংস্থার নাম এগ্রি গোল্ড গ্রুপ অফ কোম্পানিজ। এই সংস্থার তিন প্রোমোটারকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে ইডি।
কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার মধ্যে ২৮০৯টি জমি রয়েছে। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৮ একর জমির উপর ছড়িয়ে থাকা অর্ক লেজার অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে হাইল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নামের একটি বিনোদন পার্কও রয়েছে। এছাড়া একাধিক সংস্থা, কারখানাও রয়েছে এই সংস্থার।”
অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানায় ছড়িয়ে থাকা এইসব সম্পত্তি প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের আওতায় বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকে এই সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। তারপরেই এই তদন্তের ভার নেয় ইডি। তদন্ত করতে গিয়ে তারা জানতে পারে ৩২ লাখ মানুষকে ঠকিয়ে ৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ওই সংস্থা।
এই প্রতারণায় প্রধান যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল তাদের নাম আভভা ভেঙ্কট রামা রাও, আভভা ভেঙ্কট এস নারায়ণ রাও ও আভভা হেমা সুন্দর ভারা প্রসাদ। এগ্রি গোল্ড গ্রুপ অফ কোম্পানিজের প্রোমোটার তারা। তাদের তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে ইডি।
কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, এই প্রতারণার মূল মাথা আভভা ভেঙ্কট রামা রাও। নিজের সাত ভাই ও অন্যান্য কয়েক জনের সঙ্গে মিলে দেড়শর বেশি কোম্পানি তৈরি করে তারা। তারপরে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কম দামে জমি দেওয়া বা অনেক বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার নামে টাকা তোলা শুরু করে তারা।
ইডি জানিয়েছে, “এই সংস্থার হয়ে প্রতারণার জন্য হাজার হাজার এজেন্টদের নিয়োগ করা হয়েছিল। তারা মানুষকে লোভ দেখাত কম টাকায় জমি দেওয়া হবে, নইলে কম সময়ে বেশি সুদ দেওয়া হবে। এই লোভে পড়ে অনেক টাকা রাখতে শুরু করে সেখানে। এভাবে ৩২ লাখ মানুষের কাছ থেকে ৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা তোলে তারা। কিন্তু কেউ কোনও জমি পাননি। বেশি টাকা ফেরত পাওয়া তো দূর, বিনিয়োগ করা টাকাও ফেরত পাননি তারা।”
কেন্দ্রীয় সংস্থা আরও অভিযোগ করেছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে তোলা টাকা নিয়ে নিজেদের অন্য সংস্থায় সেটা বিনিয়োগ করত আভভা ভেঙ্কট রামা রাও। এভাবে কালো টাকা সাদা করার কাজ করত তারা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করে লগ্নিকারীরা। সেটা ইডি-র নজরে আসে। তারপরেই তদন্ত করে এই সম্পত্তির হদিশ পেয়ে তা বাজেয়াপ্ত করে ইডি।