দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তিন মাস কাটতে চলল। আর এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করলেন কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ আশিক । সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেছেন, "কী ক্ষতি হয়েছে তা হিসেব কষে বলা মুশকিল। তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে যে ১০ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।"
আশিক আরও বলেছেন, "এখনও পর্যন্ত উপত্যকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। পাল্লা দিয়ে চলছে ক্ষতিও।"তাঁর কথায়, "জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্ত ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই এই প্রভাব পড়েছে। এখনও সবাই স্বাভাবিক ভাবে ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারেননি।"
কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি পিটিআই-কে এও বলেছেন, "আমরা প্রশাসনকে বলেছি, এই সময়ে অধিকাংশ ব্যবসাই ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া সম্ভব নয়। আর সেটাই এখন কাশ্মীরে নেই।" বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের পর বিধিনিষেধ আরোপ হয় গোটা জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে। সে সব বিধিনিষেধ আস্তে আস্তে উঠলেও এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। আসিক বলেছেন, "ইন্টারনেট না থাকায় ইউরোপ-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে কাশ্মীরের যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, তা আপাতত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, "কাশ্মীরের হস্তশিল্পের চাহিদা সারা বিশ্বজুড়েই বিপুল। ক্রিসমাসের সময় যে সমস্ত জিনিস ডেলিভারি দিতে হয়, তার অর্ডার চলে এসেছিল জুলাই মাস নাগাদ। কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় সে সব জিনিস কী ভাবে পাঠানো যাবে তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে।" ক্ষোভের সঙ্গেই আশিক বলেছেন, "এই ক্ষয়ক্ষতির সবটার জন্য সরকার দায়ী। যা চলছে তাতে আমরা বিরক্ত। ব্যবসায়ীরা অশান্তির মধ্যে রয়েছেন। সরকারকেই এই কানাগলি থেকে বার করার পথ দেখাতে হবে।"
সেপ্টেম্বর মাসে আপেল তোলার সময়েই প্রথম সামনে এসেছিল ক্ষয়ক্ষতির কথা। একরের পর একর আপেল বাগানের গাছেই পচতে শুরু করেছিল আপেল। তারপর অবশ্য সরকার উদ্যোগ নেয়। মান্ডি তৈরি করে কৃষকদের থেকে সহায়ক মূল্যে আপেল কেনে সরকার। তাতে খানিকটা সুরাহা হলেও সার্বিক ক্ষতি ঠেকানো যায়নি বলেই মনে করছে কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্স।