দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা দেশে লক ডাউনের কারণে যখন ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে, তখন শুক্রবার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বড় রকমের রেহাই দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
এ দিন সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস ঘোষণা করেন, সমস্ত রকম টার্ম লোনের উপর তিন মাস মোরাটোরিয়াম থাকবে। সব কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক, নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি, গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে অনুমতি দেওয়া হল, তারা তিন মাস ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট নেওয়া স্থগিত রাখতে পারবে। তাঁর কথায়, "১ মার্চ থেকে যে ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট বকেয়া রয়েছে তা তিন মাস পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এবং সেই অনুসারে ঋণ শোধ দেওয়ার মেয়াদও পিছিয়ে দিতে হবে"।
যার অর্থ, বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসার ঋণের জন্য যে ইজি মান্থলি ইনস্টলমেন্ট (ইএমআই) তথা সহজ মাসিক কিস্তি দিতে হয় তা তিন মাস স্থগিত থাকবে। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও ইএমআই কাটা হবে না।
মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ছাড়াও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণা স্বস্তি দিয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা ও ব্যবসায়ীদেরও। গতকালই জি-২০ গোষ্ঠীর রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের তরফে বলা হয়েছিল যে ঋণ শোধের শর্ত প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশই যেন শিথিল করে। নইলে মন্দা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ ব্যাপারে ঘরোয়া চাপও ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর। শক্তিকান্ত দাস এদিন বলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসি কমিটি স্থির করেছে বাজারে অর্থের যোগান বাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে ঋণের টাকা ফেরতের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হবে। যাতে কার্যকরী মূলধনের অভাব না হয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণা মধ্যবিত্ত চাকরিজীবিদের বড় রকমের অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, যাঁরা সরকারি চাকুরে তাঁদের লক ডাউন পরবর্তী মন্দার বাতাবরণে কর্মক্ষেত্রে কোনও অনিশ্চয়তা থাকবে না। কিন্তু বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মচারীদের অনেকের মধ্যেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের উপর মহামারীর ধাক্কা অনিবার্য বলেই মনে করা হচ্ছে। এ হেন পরিস্থিতিতে বাড়ি-গাড়ির ঋণের ইএমআই-তে তিন মাসের মোরাটোরিয়াম তাদের বড় রকমের স্বস্তি দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর আরও বলেন, “করোনা সংক্রমণের ঝড় সামলানোর জন্যই মোরাটোরিয়াম তথা ইনস্টলমেন্ট পেমেন্ট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একে ঋণের শর্ত পরিবর্তন বলে গণ্য করলে চলবে না। এর জন্য ঋণ গ্রহীতার ক্রেডিট রেটিংও কমানো যাবে না। সম্পদের শ্রেণি বিভাজনও এর জন্য করা যাবে না। ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি গুলি এ জন্য যেন একটি নীতি নেয়”।
নর্থ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, রিজার্ভ যাতে ইএমআই-য়ের উপর তিন মাসের মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করে সেজন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফেও বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কথায়, করোনা সংক্রমণের জন্য বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। ভারত তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সরকারের থেকে সবরকম সংবেদনশীলতা প্রত্যাশা করে মানুষ। সেটাও স্বাভাবিক। আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেও মানুষকে সেই সুরাহা পাইয়ে দেওয়াই সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মোদী সরকার তা সুচারু ভাবে করারই চেষ্টা করছে। আশা করা হচ্ছে, গতকাল ও আজ উপর্যুপরি যে আর্থিক ঘোষণা হয়েছে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ঘরোয়া অর্থনীতিতে।