দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬ দিন ধরে ভেন্টিলেশনেই রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। দিল্লির সেনা হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে গভীর কোমায় রয়েছেন তিনি। তার মধ্যেই এবার বুধবারের বুলেটিনে হাসপাতালের তরফে জানানো হল, প্রণববাবুর রেনাল প্যারামিটারেও কিছু বদল হয়েছে। গতকাল থেকেই এই রেনাল প্যারামিটারে সামান্য বদল দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রেনাল প্যারামিটার বলতে বোঝায়, শরীরে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ইউরিক অ্যাসিড প্রভৃতির মাত্রা। এইসব উপাদানের মাত্রায় বদল হলে তার জেরে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনিতেই বয়স হলে শরীরে এই সব উপাদানের মাত্রায় মাঝেমধ্যে হেরফের হয়। কিন্তু প্রণববাবুর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তারমধ্যে এই রেনাল প্যারামিটারে বদল হওয়ায় সংকট কিছুটা বাড়ল বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
গত বুধবার উদ্বেগ বেড়েছিল প্রণববাবুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে। সেনা হাসপাতাল জানায়, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও কোমায় থাকা অবস্থাতেই তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয় বর্ষীয়ান এই নেতার। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসের যে সমস্যা ছিল বৃহস্পতিবার তা কিছুটা কমে বলে বুলেটিনে জানায় সেনা হাসপাতাল। তারপর শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রণববাবুর শারীরিক অবস্থায় কোনও বদল হয়নি বলেই জানায় হাসপাতাল। গতকাল রাত থেকে অবশ্য এই রেনাল প্যারামিটারে কিছু বদল দেখা গিয়েছে।
গত ৯ অগস্ট রাতে নয়াদিল্লির রাজাজি মার্গের বাড়িতে বাথরুমে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান প্রণব মুখোপাধ্যায়। মস্তিষ্কে আঘাত নিয়ে পর দিন, ১০ অগস্ট সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কোভিড রিপোর্টও পজিটিভ আসে। মস্তিষ্কে যে রক্ত জমাট বেঁধেছিল তা বের করতে অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে আর জ্ঞান ফেরেনি তাঁর। এর পরে গভীর কোমায় চলে যান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।
কার্যত ১৬ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। তবে গত রবিবার সকালে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় টুইট করে আশার খবর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আগের দিন হাসপাতালে গিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে দেখে এসেছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভগবানের কৃপা এবং সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছায় প্রণব মুখোপাধ্যায় দ্রুত বাড়ি ফিরে আসবেন।
প্রণববাবু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ি বীরভূমের কীর্ণাহারে শুরু হয়েছে যজ্ঞ ও পুজো। তিনি সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই প্রার্থনা চলবে বলেই জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও গ্রামের মানুষ। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করেছেন অনেকেই।