দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সবথেকে বড় ও দ্বিতীয় ব্যস্ত রেল স্টেশন নয়াদিল্লি। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার লাখ যাত্রী চলাচল করে এই স্টেশন দিয়ে। প্রতিদিন এই স্টেশনের উপর থাকে প্রায় ৪০০ ট্রেনের চাপ। আর তাই নয়াদিল্লি স্টেশনকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নিয়েছে রেল ল্যান্ড ডেভেমপমেন্ট অথরিটি বা আরএলডিএ। আর তার জন্যই ডাকা হয়েছে টেন্ডার। বেসরকারি সংস্থাকে এই টেন্ডার জমা দেওয়ার আহ্বান করেছে রেল।
রবিবার রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল টুইট করে জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি রেল স্টেশনকে কমার্শিয়াল, রিটেল ও হসপিটালিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রাখা হবে। আর তারজন্যই বেসরকারি সংস্থাকে টেন্ডার জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই স্টেশন কী রকমের হবে, তার ছবিও তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী।
https://twitter.com/PiyushGoyal/status/1300011689300033536?s=19
জানা গিয়েছে, অনলাইনে এই দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে। রেল ল্যান্ড ডেভেমপমেন্ট অথরিটি চাইছে আগামী দিনে এই স্টেশনের ভোল বদলে ফেলতে। তার জন্য আরও উন্নত পরিকাঠামো নিয়ে আসতে চাইছে তারা।
এই পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য একটি মডেলকেও সামনে রাখা হয়েছে। সেই মডেলের নাম ডিজাইন-বিল্ড ফিন্যান্স অপারেট ট্রান্সফার মডেল। এই মডেলের মাধ্যমে বিশ্বমানের স্টেশন তৈরি করতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চার বছর লাগবে এই নতুন স্টেশন তৈরি হতে।
রেল ল্যান্ড ডেভেমপমেন্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান বেদ প্রকাশ দুদেজা জানিয়েছেন, “নয়াদিল্লি ভারতের শুধু রাজধানীই নয়, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক কাজকর্মের কেন্দ্র। এই শহরে স্থাপত্য ও শিল্পের নানা উল্লেখযোগ্য নিদর্শন রয়েছে। তাই ইতিহাসের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর এক মেলবন্ধন করা হবে এই প্রস্তাবিত স্টেশনে। নিজেদের সুবিধার জন্যই যাত্রীরা আরও বেশি করে এই স্টেশনে আসবেন। এর ফলে নয়াদিল্লি ও আশেপাশের এলাকার পর্যটনেরও অনেক উন্নতি হবে।”
কয়েকটি পর্যায়ে এই স্টেশনের পরিকাঠামোর উন্নতি করা হবে। প্রথমে স্টেশনের উন্নতি হবে। তারপরে স্টেশন সংলগ্ন এলাকার উন্নতি করা হবে। রেলের দফতর ও কোয়ার্টারও নতুন করে গড়ে তোলা হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে। যেমন যাঁরা ট্রেন ধরতে আসবেন, ও যাঁরা ট্রেন থেকে নামবেন, তাঁদের জন্য আলাদা বন্দোবস্ত করা, লাউঞ্জ, ফুড কোর্ট, বিশ্রামের জায়গা, একাধিক ঢোকা ও বেরনোর রাস্তা, গাড়ি পার্ক করার সুবিধা প্রভৃতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ একর জমির উপর এই নতুন প্রজেক্ট হওয়ার কথা রয়েছে। তার জন্য স্টেশনের কাছেই পাঁচ-তারা হোটেল, কমদামী হোটেল থেকে শুরু করে দোকানপাঠ ও অফিস তৈরি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু নয়াদিল্লি নয়, দেশের ৬২ টি স্টেশনের উন্নতিতে কাজ করছে রেল ল্যান্ড ডেভেমপমেন্ট অথরিটি। ধাপে ধাপে হবে এই উন্নয়ন। তার মধ্যে নয়াদিল্লি ছাড়াও তিরুপতি, দেহরাদুন, নেল্লোর, পুদুচ্চেরী প্রভৃতি স্টেশন রয়েছে। পিপিপি মডেলের এই সব উন্নয়ন হবে। এই মুহূর্তে রেলের প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর ফাঁকা জায়গা পড়ে রয়েছে। সেই জায়গাগুলিকে কাজে লাগিয়ে এই সব প্রজেক্ট তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে রেল। আর তার জন্যই বেসরকারি বিনিয়োগের আহ্বান করা হচ্ছে।