দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে অচলাবস্থা তৈরি করে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যখন সহানুভূতি কুড়োনোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তখন তাঁকে তীব্র খোঁচা দিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়।
শর্মিষ্ঠা বর্তমানে দিল্লির মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী ও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র। এদিন দুপুরে জ্যোতিরাদিত্য আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই সেই ফুটেজ নিয়ে শর্মিষ্ঠা টুইট করেন। তাতে তিনি লেখেন, “অনেক শুভেচ্ছা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াজি। আশা করি কংগ্রেস শাসনে আপনি দেশসেবার জন্য যতটা সুযোগ ও গুরুত্ব পেয়েছেন, বিজেপিতে গিয়েও ততটাই সুযোগ ও গুরুত্ব পাবেন”।
শর্মিষ্ঠার এই মন্তব্য অর্থবহ। বিশেষ করে কংগ্রেস রাজনীতির অন্দরমহল যাঁরা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা বুঝতে পারছেন কী তীব্র কটাক্ষই না জ্যোতিরাদিত্যকে করেছেন প্রণব কন্যা। এদিন দুপুরে বিজেপি দফতরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর জ্যোতিরাদিত্য বলেছিলেন, “কংগ্রেসে থেকে তিনি দেশসেবা করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কারণ কংগ্রেসের মধ্যে একটা জড়তা ও স্থবিরতা কাজ করছে। কিছুই নড়ছে না।”
https://twitter.com/Sharmistha_GK/status/1237676590525374464
জ্যোতিরাদিত্যর ওই কথা থেকেই দেশসেবার কথা টেনেছেন শর্মিষ্ঠা। প্রণব কন্যা তো বটেই কংগ্রেসের অনেক নেতাই জানেন, কংগ্রেস রাজনীতিতে জ্যোতিরাদিত্যের উত্থানের নেপথ্যে যতটা না পরিশ্রম রয়েছে তার বেশি রয়েছে পরিবারতন্ত্র। মাধবরাও সিন্ধিয়ার অকাল মৃত্যুর পর কংগ্রেস পরিবার থেকে প্রবল সহানুভূতি পেয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য। মধ্যপ্রদেশের গুনা লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি জেতার পর থেকেই কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলতে গেলে, ইউপিএ জমানায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে থেকে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার মধ্যে তিনিই ছিলেন অন্যতম। পরে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সহ সভাপতি হওয়ার পর জ্যোতিরাদিত্যকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এমনকি কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর তাঁকে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি তথা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যও করা হয়েছিল। শুধু তা নয়, চোদ্দ সালে কংগ্রেস লোকসভা ভোটে পরাস্ত হওয়ার পর সংসদের নিম্নকক্ষে দলের ডেপুটি লিডার করা হয়েছিল জ্যোতিরাদিত্যকে।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই এদিন জ্যোতিরাদিত্যকে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছেন নাড্ডা-অমিত শাহ। কিন্তু প্রশ্ন হল, কংগ্রেস জমানায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যে রকম আস্থাভাজন ছিলেন জ্যোতিরাদিত্য তা কি তিনি বিজেপিতে পাবেন? মোদী-অমিত শাহরা তাঁকে সামনে রেখে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের ভাঙন ধরিয়েছেন, হয়তো সরকারও গড়ে ফেলবেন, কিন্তু বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটিতে কি জায়গা হবে সিন্ধিয়ার? নাকি তাঁকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে পরবর্তীকালে মেনে নেবেন সেখানকার বিজেপি নেতারা। এই প্রশ্নগুলি ও সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। আর তা নিয়েই হয়তো খোঁচা দিতে চেয়েছেন শর্মিষ্ঠা। বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খাই জ্যোতিরাদিত্যর দল ছাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ ছিল, তাই মতাদর্শের প্রশ্নে আপস করেছেন। দেশসেবার কথা আদতে হয়তো বাহানা।