দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের ফলে দেশের টালমাটাল আর্থিক পরিস্থিতিতে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণের যোগান বাড়িয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেইসঙ্গে কমানো হয়েছে রিভার্স রেপো রেটও। এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক উন্নয়নের পক্ষে উপযোগী হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, এই পদক্ষেপের ফলে দেশে অর্থের যোগান বাড়বে। এছাড়া চাষি, ছোট ব্যবসায়ী ও গরিবদের ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের পরে টুইট করে মোদী লেখেন, “আজ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই ঘোষণা দেশে অর্থের যোগান বাড়াবে। এই পদক্ষেপের ফলে আমাদের দেশের ছোট ব্যবয়ায়ী, চাষি ও গরিবদের সাহায্য হবে। এর ফলে রাজ্যগুলিরও অনেক সাহায্য হবে।”
https://twitter.com/narendramodi/status/1251054144284065794
এর আগে শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানান, বাজারে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণের যোগান বাড়াল আরবিআই। তা ছাড়া ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে আরও বেশি ঋণ দেয় সে জন্য রিভার্স রেপো রেটও ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৩.৭৫ শতাংশ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর জানান, জাতীয় কৃষি ব্যাঙ্ক, নাবার্ড, সিডবি এবং জাতীয় হাউজিং ব্যাঙ্ককে রেপো অপারেশনসের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা পাবে নাবার্ড, ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে সিডবিকে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ককে।
পাশাপাশি এলসিআর তথা লিক্যুইডিটি কভারেজ রেশিও আরও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তা ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। এদিন শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, আগামী বছর এপ্রিলের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ফের ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলি এর ফলে উপকৃত হবে। একে তাদের জন্য প্যাকেজ বলে বিবেচনা করলে অবশ্য ভুল হবে। বরং বলা যেতে পারে, তাদের ব্যবসার খাতে অর্থের যোগানের যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
শক্তিকান্ত দাস এদিন আরও বলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই যে সব পদক্ষেপ করেছে তাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উদ্বৃত্ত তহবিল বাজারে ঢালতে শুরু করেছে। তাতে নগদের যোগান বেড়েছে। তা আরও বাড়ানোর জন্যই রিভার্স রেপো রেট কমানো হয়েছে।
তাঁর কথায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ঘরোয়া অর্থনীতিতে প্রতি মুহূর্তেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সে দিকে সর্বদাই নজর রেখে চলেছে। পরিস্থিতি যেমন এগোবে সেই অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই বড় ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী।