দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। দেশের বেড়ে চলা জনসংখ্যা নিয়ে আগেও একাধিক পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারের তরফে 'হাম দো হামারা দো'র ক্যাম্পেন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এ বার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কড়া দাওয়াই দিলেন যোগগুরু রামদেব।
সম্প্রতি আলিগড়ে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবা রামদেব। সেখানেই তিনি এই প্রসঙ্গ তুলে আনেন। বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা দেশের উন্নতিতে বাধা দিচ্ছে। সরকারের তরফে অনেক আবেদন করেও এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এ বার সময় এসেছে কড়া হাতে তা মোকাবিলা করার।
কিন্তু কীভাবে?
রামদেব জানান, সরকারের উচিত যেসব দম্পতীর দুইয়ের থেকে বেশি সন্তান আছে, তাঁদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। যোগগুরু বলেন, "শুধু ভোটাধিকারই নয়, দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের সরকারি চাকরি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, সরকারিও স্কুল-কলেজে পড়াশোনার অধিকার সব কেড়ে নেওয়া উচিত।" এই নিয়ম হিন্দু-মুসলিম সব ধর্মের লোকেদের উপরেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এ ছাড়াও দুইয়ের বেশি সন্তান হলে তাঁর ভোটে দাঁড়ানোর অধিকারও কেড়ে নেওয়া উচিত বলেই বক্তব্য গুরু রামদেবের।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে একাধিক বার মুখ খুলেছেন 'পতঞ্জলি' কোম্পানির মালিক বাবা রামদেব। নভেম্বর মাসে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে রামদেব বলেছিলেন, যাঁরা অবিবাহিত তাঁদের বেশি সম্মান দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, "আমার মতো যে সমস্ত লোকেরা অবিবাহিত থেকেই সারাজীবন কাটিয়ে দেন, সরকারের উচিত তাঁদের বিশেষ সম্মান দেওয়া।"
আলিগড়ে নিজের বক্তব্যের সাফাইও গান রামদেব। তিনি বলেন, ভারতের জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন দেড়শ কোটির কাছাকাছি। এখনই যদি এই ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। রামদেবের এই মন্তব্যের পর অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে জনসাধারণের মধ্যে। কেউ বলছেন, ঠিকই বলছেন রামদেব। আবার কেউ বলছেন, রামদেবের চিন্তা সঠিক হলেও যে পদ্ধতিতে তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, তা ঠিক নয়। এটা দেশের সংবিধানের বিরোধী।