দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমানোর ব্যাপারে গতকালই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। এ ব্যাপারে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দিতে ছাড়লেন না প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বৃহস্পতিবার প্রাক্তন সেনা কর্তাদের এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের এক প্রতিবেশীর কাণ্ড কারখানা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। বাস্তব হল, বন্ধু পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না। আর যে ধরনের প্রতিবেশী আমাদের রয়েছে, ভগবানের কাছে প্রার্থনা এমন যেন কারও না হয়”।
রাজনাথ এই মন্তব্য করার আগেই এ দিন ইসলামাবাদকে নরমে গরমে জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “কাশ্মীরে যে পদক্ষেপ করা হয়েছে তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে বাইরের কারও নাক গলানোর অধিকার নেই”। এরই পাশাপাশি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখার জন্য ইসলামাবাদকে বার্তা পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।
কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই পাকিস্তান প্রায় রোজ কমবেশি কড়া কথা শোনাচ্ছে। এমনকী পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এও বলেছেন, ভারত যা করেছে তার প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। তুলনায় নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থানে অবিচল থেকেও সংযম রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লালকৃষ্ণ আডবাণী, নরেন্দ্র মোদীরা বরাবরই কট্টরপন্থী বলে পরিচিত। রাজনাথ তেমন নন। এ দিনও পাকিস্তানকে তিনি খোঁচা দিয়েছেন মাত্র। কোনও কড়া কথা শোনাননি।
তবে গোটা দেশ এখন অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশ্মীর সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। যার নেপথ্য উদ্দেশ্য অবশ্যই রাজনৈতিক। সেই সঙ্গে ইসলামাবাদের উদ্দেশে তিনি কূটনৈতিক বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে।