দ্য ওয়াল ব্যুরো: মস্কো সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিন দিনের সফরে গিয়েছেন তিনি। সেখানেই চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রাজনাথ সিংয়ের। সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা একটা বৈঠকের আমন্ত্রণ পেয়েছি। একটা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।”
চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে বৈঠকের আবেদন জানিয়েছেন বলে খবর। মস্কোতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের একটি বৈঠকের পাশাপাশি এই বৈঠক হওয়ার কথা। গত কয়েক মাস ধরে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দু’দেশের মধ্যে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে।
সম্প্রতি চুসুল সেক্টরে দক্ষিণ প্যাংগং লেক-সংলগ্ন পার্বত্য এলাকা ভারতীয় সেনা দখল করেছে তার পরেই সুর নরম করে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইছিল চিন। চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংগে নিজেই প্রস্তাব রেখেছিলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান তিনি। মস্কোর কথাও তিনিই বলেছিলেন। সে বিষয়ে সবুজ সংকেতও দিয়েছিল সাউথ ব্লক। আজই সেই বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দফতরের তরফে।
প্রসঙ্গত, দিন তিনেক আগে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সামিটে অংশ নিতে মস্কো গেছেন রাজনাথ সিং। তবে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল না তাঁর।
গতকাল, বৃহস্পতিবারই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যেতেই হবে, তবে নয়াদিল্লি কোনও ভাবেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে পিছপা হবে না। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, সেই কারণেই চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাবে প্রছমেই হ্যাঁ করেনি ভারত। এটা এক রকমের চাপ বাড়ানোর কৌশলও বটে।
আবার পাশাপাশি, আলোচনার জন্য মস্কোকে বেছে নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, আড়াল থেকে রাশিয়া চেষ্টা করছে ভারত-চিন বিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে। তবে এতে ভারতের যে খুব আপত্তি রয়েছে, তা নয়। কিন্তু এ কথা নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, এত বছরের সহিষ্ণুতা নীতি ভেঙে এবার পাল্টা জবাব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছেছে তারা। এটা হয়তো বেজিংয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছে চিনের কোনও বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে কিনা, সেটাও ভাবার বিষয়।
গত মে মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয় বার তারা ভারতের কাছে বৈঠকের আর্জি পেশ করল। কিন্তু তার পরেও বারবারই আগ্রাসী হয়েছে চিন। ১৫ জুন রাতে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ঘটে যায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। এর পরেও ভারতের দিক থেকে স্থিতাবস্থ রক্ষার চেষ্টা চললেও ফের নতুন করে প্যাংগং লেকের দক্ষিণে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে চিন। এবার আর ছেড়ে কথা বলেনি ভারতও। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্যাংগং লেকের উত্তরে ফিঙ্গার ৪-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয় ভারতীয় সেনা।
ফলে ওই অঞ্চলটি এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে। গত জুন থেকে এখনও পর্যন্ত এই প্রথম সেনা ও স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ফিঙ্গার ৪-এ এতবড় সাফল্য পেল। এর পরেই চিনের তরফে আলোচনার ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভবত তারা ভারতের শক্তিকে এবার গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে।
তাই রাশিয়ায় সাংহাই মিটের সুযোগে, চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলাদা করে রাজনাথের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে চেয়েছেন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকরা।