দ্য ওয়াল ব্যুরো: শচীন পাইলট-সহ তাঁর শিবিরের ১৯ জন বিধায়ককে শোকজ করেছিলেন রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সিপি যোশী। সেই নোটিসে পাইলটদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হবে না? তা নিয়ে জয়পুর হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন শচীন। মঙ্গলবার স্পিকারের উদ্দেশে আদালত বলেছিল, ও পথে এখনই যাওয়া যাবে না। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজস্থান বিধানসভার অধ্যক্ষ সিপি যোশী জানিয়ে দিলেন, হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করতে চলেছেন তিনি।
কংগ্রেসের বক্তব্য, শচীন পাইলট এবং তাঁর শিবিরের আরও ১৮ জন বিধায়ক রাজস্থানের অশোক গেহলট সরকারকে ফেলতে ষড়যন্ত্র করেছেন। এমনকি গিরিরাজ সিং মালিঙ্গা নামের এক কংগ্রেস বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, পাইলট তাঁকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ৩৫ কোটি টাকা অফার করেছিলেন। যদিও এহেন অভিযোগের জন্য তাঁকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন শচীন।
সাংবাদিক বৈঠক করে সিপি যোশী জানিয়েছেন, সাংবিধানিক সংকটের জন্যই তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। তিনি এও বলেছেন, জয়পুর হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে তাঁর কোনও সংঘাত নেই।
জয়পুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ মহান্তি এবং বিচারপতি প্রকাশ গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। পাইলটদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তিনি বলেন, স্পিকারের এ হেন নোটিস সংবিধানের দশম তফসিলকে লঙ্ঘন করছে। পাল্টা অধ্যক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, বিধানসভার স্পিকারের অধিকার রয়েছে বিধায়কদের শোকজ করার। সংবিধানই এই অধিকার দিয়েছে স্পিকারকে।
এই মামলায় যুক্ত হয়ে পড়ে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের নেতা মদন দিলওয়ার আদালতে বলেন, কংগ্রেসের বিধায়করা দল ছাড়ছেন বলে স্পিকার নোটিস দিয়েছেন। তাহলে তাঁকে তাঁদেরও কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে হবে যাঁরা বহুজন সমাজ পার্টির টিকিটে বিধায়ক হওয়ার পর দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, শচীনের বিরুদ্ধে ঘুষ দিতে চাওয়ার অভিযোগ তোলা গিরিরাজ সিং মালিঙ্গাও বিএসপি-র টিকিটে জিতে পরে কংগ্রেসে যোগ দেন।
সব মিলিয়ে রাজস্থানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে টানটান নাটক চলছে, তা এবার পৌঁছতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে যা নিয়ে অবশ্য পাইলট শিবিরের তরফে বুধবার সকাল পৌনে এগারোটা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।