দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার শরিক দল ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির দুই বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে সমর্থন জানিয়েছেন। কয়েক দিন আগে এই দুই বিধায়ক কংগ্রেস সরকার থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছিলেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। রাজ্যপালের সামনে কংগ্রেস সরকার ধরে রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যপালের দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “শনিবার সন্ধেবেলা রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে রাজ্যপালকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ৪৫ মিনিট তাঁদের মধ্যে কথোপকথন হয়।”
তার আগেই টুইট করে দুই বিধায়কের সমর্থনের কথা বলেন গেহলট। টুইটে তিনি লেখেন, “ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির দুই বিধায়ক সরকারকে তাঁদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবির কথা জানানোর পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।”
এই দুই বিধায়ককে নিয়ে গত কয়েক দিনে রাজস্থানের রাজনীতি ঘটনার ঘনঘটা দেখেছে। কয়েক দিন আগে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, জয়পুর থেকে বেরনোর আগে পুলিশ তাঁদের তাড়া করে এবং তাঁদের থামিয়ে রীতিমতো তাঁদের বন্ধক করে রাখা হয়। ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির এই দুই বিধায়কের সমর্থন হারালে রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হত গেহলট সরকারকে। তাই হঠাৎ করেই এই দুই বিধায়কের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
গত রবিবার দিল্লি গিয়ে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে ৩০ জন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তিনি চাইলেই সরকার ফেলে দিতে পারেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, তাঁর সঙ্গে ১০৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে যা রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার বাঁচিয়ে রাখতে যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির এক বিধায়ক রাজকুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা রাজস্থানেই থাকবেন। পাইলট শিবিরে যোগ দেননি তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কিছু বিষয়ে কথা বলতে চান তাঁরা। এদিকে দলের প্রধান মহেশ ভাই বাসব দলের বিধায়কদের চিঠি লিখে জানিয়েছেন, যদি বিধানসভায় আস্থা ভোট হয়, তাহলে তাঁরা যেন নিরপেক্ষ থাকেন। অর্থাৎ আস্থাভোটে তাঁরা যেন অংশ না নেন।
পরবর্তীকালে দুই বিধায়ক জানিয়েছেন, কংগ্রেস সরকারের সঙ্গেই তাঁরা রয়েছেন। তাঁরা বলেন, “কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা সরকারের সঙ্গেই রয়েছি। কিন্তু এই ব্যাপারে আমাদের দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার পরেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”