দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিনের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর শনিবার ফের মোদীর উদ্দেশে জোড়া প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবারের ভার্চুয়াল সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী নেতাদের ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন, কেউ ভারতের সীমান্তে ঢোকেনি। ভারতের সেনা চৌকিও কেউ দখল করতে পারেনি। সেই প্রসঙ্গেই রাহুল এদিন প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের সেনা জওয়ানরা কেন নিহত হলেন? তাঁরা কোথায় শহিদ হলেন?"
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1274177964104486912?s=08
গত সোমবার চিনা সেনাদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনাদের। গোলাগুলি ছাড়াই শুধু লাঠি, রড, ইট, পাথর দিয়ে সংঘাতে ভারতের ২০ জন জওয়ানের প্রাণ গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলারও দু'জন। দু'দিন আগেই প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি লিখেছিলেন, "আপনি কী লুকোতে চাইছেন? ওখানে কী হয়েছে? চিনের স্পর্ধা হয় কী করে ভারতের জমি দখল করার? সামনে এসে সমস্ত সত্যিটা বলুন।"
কাকতালীয় ভাবে রাহুলের ওই টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়ে বলেন, "ভারত শান্তি চায়। কিন্তু উস্কানি দিলে বদলা নিতেও জানে।" যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, বিদেশমন্ত্রক যে বিবৃতি দিয়েছিল তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গতি নেই। কারণ ওই ঘটনার পর বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের অংশে ঢুকে পড়েছিল পিপলস লিবারেশন আর্মি। পাল্টা বেজিং দাবি করেছিল, গালওয়ান উপত্যকায় চিনের অংশে ঢুকে প্রথমে হামলা করে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী।
তারপর এও জানা যায়, একটি তাঁবু সরানো নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। চিনা সেনাদের একটি তাঁবু সরানোর ব্যাপারে গত ৬ জুন দুই বাহিনীর কম্যান্ড স্তরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তারপর দিন দশ কেটে গেলেও পিএলএ তা না সরানোয় ভারতীয় জওয়ানরা তা সরাতে গেলে সংঘাত বাঁধে।
যদিও সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগে বর্ডারে নজরই দেওয়া হতো না। তাই যে যখন পারত ঢুকে আসত। এখন টা হয় না। উল্টে সীমান্তে সেনাবাহিনী এতটাই সজাগ যে কেউ ভারতের ভূখণ্ডের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে না। তিনি এও বলেন, লাদাখে সেনারা শহিদ হওয়ার আগে চিনকে সবক শিখিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগেই সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছিল, 'মারতে মারতে মরে হ্যায়!"
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধী এই প্রশ্ন তুলে আসলে বক্তব্যের অসঙ্গতিকেই চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। সেইসঙ্গে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সীমান্ত নিয়ে সরকার যতই লম্বাচওড়া কথা বলুক, আসলে ওখানে দূর্বলতা রয়েছে।