দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। তাঁকে বসতে দেওয়া হয়েছিল চতুর্থ সারিতে। কংগ্রেসীরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন তাতে। কিন্তু শনিবার ৭০ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের সময় দেখা গেল, রাহুল বসে আছেন প্রথম সারিতে, শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা নীতিন গড়কড়ির পাশে। দু’জনকে হেসে গল্পও করতে দেখা গেল। রাহুলের তিনটি সিট বাদেই বসেছিলেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।
গতবছর রাহুল বসেছিলেন কংগ্রেসের অপর শীর্ষ নেতা গুলাম নবি আজাদের পাশে। কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, রাহুলের মা সনিয়া গান্ধী তো বরাবর প্রথম সারিতে বসতেন। রাহুলকে পিছনের সারিতে জায়গা দেওয়া হল কেন? রাহুল নিজে অবশ্য বলেন, কোথায় বসতে পাওয়া গেল তা বড় কথা নয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাই বড় কথা।
গাদকারি কিছুদিন ধরেই বিজেপি সরকারের সমালোচনা করছেন। গত মাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ভাষণ শুনতে তিনি পছন্দ করেন। তিনি নিজে এক ভাষণে নেহরুকে উদ্ধৃত করে বলেন, দেশের অর্ধেক সমস্যা অনেকে ইচ্ছা করে তৈরি করে। গতমাসে তিনি আরও এক প্রাক্তন কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসা করে বলেন, তিনি নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তাঁর যোগ্যতা দলের পুরুষ নেতাদের চেয়ে বেশি। নাগপুরে এক মহিলা সেলফ হেল্প গ্রুপের অনুষ্ঠানে তিনি ওই কথা বলেন।
গড়কড়ি যেভাবে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতাদের প্রশংসা করছেন, তাতে বিজেপি নেতা আশিস দেশমুখ প্রশ্ন তোলেন, আগামী দিনে গড়কড়ি কি রাফায়েল চুক্তি নিয়ে রাহুলের সঙ্গে একমত হবেন?
গতবছর অগাস্টে কংগ্রেসও গাদকারির প্রশংসা করেছিল। তখন চাকরিতে সংরক্ষণের দাবিতে মারাঠাদের আন্দোলন হচ্ছিল মহারাষ্ট্রে। গড়কড়ি বলেছিলেন, সংরক্ষণ যে হবে, চাকরি কোথায়? এরপরে কংগ্রেস টুইট করেছিল, আমরা নীতিন গাদকারিকে অভিনন্দন জানাই। বিজেপির মন্ত্রী হয়েও তিনি সত্যি কথাটা বলেছেন। দেশের জনতা আজ যে প্রশ্নটি করছে, তিনিও তাই করেছেন। রাহুল গান্ধী নিজে টুইট করে বলেছিলেন, এক্সেলেন্ট কোশ্চেন গড়কড়িজি। প্রত্যেক ভারতীয় এখন এই প্রশ্নটিই করছেন।
এদিন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও এইচ ডি দেবগৌড়া, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।