দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। বলেন, "রাহুল গান্ধী একটা মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের সন্তান। কিন্তু ওঁর নাবালকের মতো মন্তব্যকেই নির্বাচনের সময় ওদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করবে বিরোধীরা। মানুষ ওদের জুতোপেটা করবেন।’’
রাজ্যপালের এমন মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটা সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি এমন মন্তব্য করেন কী করে? লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, "রাজ্যপাল যে ভাষা ব্যবহার করছেন তা পঞ্চায়েতের নেতারাও করেন না। উনি নিজের চেয়ারের ওজন ভুলে বিজেপি নেতার কাজ করছেন।"
https://twitter.com/i/status/1166712587238744064
রবিবার শ্রীনগর বিমানবন্দরে রাহুল গান্ধীকে আটকে দেওয়া হলে, তিনি মন্তব্য করেছিলেন, কাশ্মীরে হিংসা চলছে। তাই তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। রাহুলের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে নেয় ইসলামাবাদ। ইমরান খান প্রশাসনের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারি গত কাল রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়ে বলেন, কাশ্মীরে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে তা মেনে নিয়েছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। পর্যবেক্ষকদের মতে এর পরেই রাহুল সতর্ক হয়ে যান। ওই চিঠিটিকে বিজেপি যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারে, তা আন্দাজ করেই বুধবার পাকিস্তানের নিন্দা করে বিবৃতিও দেন রাহুল। আলাদা করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয় কংগ্রেসও। টুইট করে সনিয়া-পুত্র বলেন, "সরকারের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার মতান্তর রয়েছে। কিন্তু একটা কথা স্পষ্ট করে দিতে চাই। কাশ্মীর হল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এ ব্যাপারে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের নাক গলানোর কোনও জায়গা নেই”।
এরপরও বিজেপি আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেছেন, "পরিস্থিতি বুঝে রাহুল ইউ টার্ন করছেন। ওঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।" পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করতেই পারে। তাই বলে রাজ্যপাল? তাও আবার ওই ভাষায়?