দ্য ওয়াল ব্যুরো: যদি শতদ্রু ও যুমনা নদীর মধ্যে লিঙ্ক ক্যানেল তৈরি হয় তাহলে পঞ্জাবে আগুন জ্বলবে ও জলবন্টন নিয়ে পঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যে চলা সমস্যা একটা জাতীয় সমস্যায় পরিণত হবে, কেন্দ্রকে এমনটা জানিয়েই সতর্ক করলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং। একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কথা জানান পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরও উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার হওয়া এই বৈঠকে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সুরক্ষার দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনাদের বিষয়টি দেখতে হবে। যদি শতদ্রু-যমুনা লিঙ্ক ক্যানেল তৈরি হয়ে যায়, তাহলে পঞ্জাবে আগুন জ্বলবে এবং এই বিষয়টি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হবে। সেইসঙ্গে হরিয়ানা ও রাজস্থানেও এর প্রভাব পড়বে।”
পঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য তৈরি করার পর ১৯৬৬ সাল থেকে এই জলবন্টন সমস্যার শুরু। হরিয়ানা বারবার একটা বড় পরিমাণ জলের দাবি জানিয়েছে, যা পঞ্জাব দেয়নি। পঞ্জাব জানিয়েছে, তাদের কাছে উদ্বৃত্ত জল নেই। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকার দুই রাজ্যের মধ্যে জল ভাগ করে দেয় ও এই কাজের জন্য একটা ক্যানেল তৈরির কথা বলে।
১৯৮২ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই ক্যানেল তৈরির কাজ শুরুও করান। কিন্তু এর বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ শুরু করে শিরোমণি অকালি দল। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী শিরোমণি অকালি দলের প্রধান হরচাঁদ সিং লঙ্গোওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির এক মাসের মধ্যে দুষ্কৃতীর হামলায় নিহত হন হরচাঁদ। ১৯৯০ সালে এই ক্যানেলের দায়িত্বে থাকা চিফ ইঞ্জিনিয়ার এমএল সেখরি ও সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার অবতার সিংহ আউলাখকেও দুষ্কৃতীরা খুন করে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছিলেন পঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, কয়েক দশক আগে কাজ শুরু হওয়ার পরেও এখনও কাজ শেষ হয়নি শতদ্রু-যমুনা লিঙ্ক ক্যানেলের। এই সমস্যা দুই মুখ্যমন্ত্রীকে বসে সমাধানের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট।
এই বৈঠকে একটি নতুন চুক্তির দাবি জানিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং। তাঁর বক্তব্য, জলের পরিমাণের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় জলের যোগানের পুরোটা তাঁর রাজ্যকে দিতে হবে। যমুনা নদী থেকেও জলের একটা বড় অংশের দাবি করেছেন তিনি। যদিও অমরেন্দ্র জানিয়েছেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসে কথা বলতে তিনি তৈরি। অমরেন্দ্র বলেন, “যদি আমাদের কাছে উদ্বৃত্ত জল থাকে, তাহলে আমাদের জল দিতে সমস্যা হবে কেন?”
পঞ্জাব সরকারের তরফে জারি একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানিয়েছেন ক্যানেল তৈরির কাজ শেষ হোক, আর তার মধ্যে দু’রাজ্যে বসে এই সমস্যা মিটিয়ে নিক।
অন্যদিকে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, চণ্ডীগড়ে ফের একবার বৈঠকে বসবে দুই রাজ্য। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।