দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাবজি-র নেশায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আইসিইউ-তে পৌঁছল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে ব্লাড ক্লট (thrombosis) হয়েছে ওই ছাত্রের।
এর পাশাপাশি অপুষ্টিতে ভুগছে সে। খুব অল্প সময়ে মারাত্মক ভাবে কমে গিয়েছে ওজন-ও। শরীরে জলের ঘাটতি হওয়ায় ডিহাইড্রেশন হয়েছে তার। মানসিক সমস্যাতেও ভুগছিল সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাবজি গেম খেলার জন্যই এই সমস্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে। খেলার নেশায় এতই বুঁদ ছিল ওই পড়ুয়া যে তার অজান্তেই কত বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। এমনকী হাতে-পায়েও সাড় কমে গিয়েছে ওই পড়ুয়ার। জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদের ওই ছাত্রের বয়স মাত্র ১৯। সে হায়দরাবাদের ওয়ানাপার্থির বাসিন্দা।
গত ২৬ অগস্ট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার মা। চিকিৎসকদের জানান, ছেলে ডান হাত এবং পা নাড়াতে পারছে না। এর আগেও বেশ কয়েকবার তীব্র মাথা ব্যথা এবং বমি হয়েছে বলেও জানানো হয় চিকিৎসকদের। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাঝেই ওই তরুণের মা চিকিৎসকদের জানান ছেলের সাংঘাতিক নেশা রয়েছে পাবজি খেলার। তিনি জানান, দিনে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পাবজি খেলে ছেলে। বারণ করলেও কোনও কথাই কানে নেয় না। পড়াশোনাতেও অমনযোগী হয়ে পড়েছিল সে। এমনকী রাতে সবাই শুয়ে পড়লে চাদরের তলায় ফোন লুকিয়েও ভোর ৪টে অবধি গেম খেলত ওই ছাত্র। কলেজে ঠিকমতো ক্লাস করতেও যেত না।
এরপরেই সব সমস্যার কারণ পরিষ্কার হয় চিকিৎসকদের কাছে। অবশেষে আপাতত খানিক সুস্থ হয়েছে ওই পড়ুয়া। শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছে সে। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ ফোনের আশেপাশেও যেন ঘেঁষতে না দেওয়া হয় ওই পড়ুয়াকে। পাবজি খেলা তো দূরের কথা। আপাতত তাই মায়ের কড়া নজরেই রয়েছে ওই পড়ুয়া।