দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত তিনি। জেল থেকে জামিন পেয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তারপর থেকেই একের পর এক অশালীন মন্তব্য করে চলেছেন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা। তিনদিন আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর অভিশাপের ফলেই ২৬/১১ মুম্বই হামলায় নিহত হয়েছিলেন এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারে। শনিবার তিনি মন্তব্য করেন, অন্যান্য করসেবকদের সঙ্গে মিলে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙতে গিয়েছিলেন তিনিও। এবং এ ব্যাপারে তিনি গর্বিত। এই দুটি মন্তব্যের ভিত্তিতে একদিনেই তাঁকে দুটি নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে ভোপালের বিজেপি প্রার্থী বলেন ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনিও গিয়েছিলেন বাবরি মসজিদ ভাঙতে। এবং এই ঘটনার জন্য তিনি গর্বিত। সাধ্বী বলেন, “আমরা দেশ থেকে একটা কলঙ্ককে সরিয়েছি। আমরা বাবরি মসজিদ ভাঙতে গিয়েছিলাম। আমি নিজেকে খুব গর্বিত মনে করি, যে ভগবান আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছিল, এবং আমরা সেটা করতে পেরেছিলাম। ওই জায়গাতে যাতে রামমন্দির হয়, সেটা নিশ্চিত করব আমরা।”
প্রজ্ঞা ঠাকুরের এই বক্তব্যের পরেই সমালোচনা শুরু করে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস মুখপাত্র মনক আগরওয়াল বলেন, “বিজেপি ও মোদীকে এই ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। তারা বারবার বলেছে, যেহেতু এই বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে, তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত হবে না। কিন্তু তাদেরই এক প্রার্থী এই কথা বলছে। আমার মনে হয়, উনি ( সাধ্বী প্রজ্ঞা ) নির্বাচনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত নন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন নোটিস পাঠিয়েছে। এ বার প্রধানমন্ত্রীকে হয় ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে জবাবদিহি করতে হবে।”
তিনদিন আগে মুম্বই হামলায় শহিদ এটিএস চিফ হেমন্ত কারকারেকে নিয়ে মন্তব্য করে প্রথম বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন প্রজ্ঞা। তিনি বলেন, “হেমন্ত কারকারে একজন দেশবিরোধী, ধর্মবিরোধী লোক। মালেগাঁও বিস্ফোরণের মামলায় আমাকে মিথ্যে ফাঁসিয়ে জেলে ঢুকিয়ে আমার উপর অকথ্য অত্যাচার করেছে এই কারকারে। তাই আমি ওকে অভিশাপ দিয়েছিলাম। তার কয়েকদিন পরেই নিহত হয় কারকারে।” এই মন্তব্যের পরেও শুরু হয় সমালোচনা। চাপে পড়ে নিজের কথা তুলে নিতে বাধ্য হন সাধ্বী প্রজ্ঞা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মালেগাঁও বিস্ফোরণের মামলার প্রাক্তন পাবলিক প্রসিকিউটার রোহিনী সৈলান জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। তাঁর শরীরে মারধরের কোনও চিহ্ন ছিল না বলেই জানিয়েছেন তিনি। রোহিনীর দাবি, ভোটে দাঁড়িয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকার জন্যই বারবার এই ধরণের বিতর্কিত মন্তব্য করছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা।
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওতে বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত হয়। এটিএস-এর তরফে জানানো হয়, দক্ষিণপন্থী কিছু সংগঠন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এরপরেই সাধ্বী প্রজ্ঞাকে গ্রেফতার করা হয়। আপাতত জামিনে রয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে কংগ্রেস প্রার্থী দিগ্বিজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করে ৪৮ বছর বয়সী সাধ্বী প্রজ্ঞাকে। তাঁকে টিকিট দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, সাধ্বীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে সেইসব মানুষদের জবাব দেওয়ার জন্য যাঁরা হিন্দু সভ্যতাকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার মিথ্যে চেষ্টা করছেন। এই প্রার্থী কংগ্রেসকে তাদের আসল রূপ দেখিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-world-many-people-killed-and-injured-in-serial-blast-in-colombo/