Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

৪৯-এর পাল্টা ৬২, এ বার মোদীর সমর্থনে খোলা চিঠি বিশিষ্টজনদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ভিতরে ক্রমাগত ঘটে চলা গণপ্রহারে মৃত্যু, আক্রমণের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’–এর ব্যবহার সহ একাধিক ‘দুঃখজনক ঘটনা’তে উদ্বিগ্ন দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বুধবার খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে

৪৯-এর পাল্টা ৬২, এ বার মোদীর সমর্থনে খোলা চিঠি বিশিষ্টজনদের

শেষ আপডেট: 26 July 2019 07:06

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ভিতরে ক্রমাগত ঘটে চলা গণপ্রহারে মৃত্যু, আক্রমণের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’–এর ব্যবহার সহ একাধিক ‘দুঃখজনক ঘটনা’তে উদ্বিগ্ন দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বুধবার খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে। এ বার সেই চিঠির পাল্টা হিসেবে দেশের ৬২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি চিঠি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রীকে। এই চিঠিতে সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রসূন জোশী, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, পরিচালক মধুর ভান্ডারকর সহ-৬২ জনের বক্তব্য, যে ৪৯ জন আগে চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে মিথ্যে ধারণা তৈরি করতে চাইছেন জনমানসে। তাঁদের দাবি, মোদী সরকারের সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অনেক বেশি সুস্থির। শুক্রবারের চিঠিতে প্রসূন জোশী, মধুর ভান্ডারকর, কঙ্গনা রানাওয়াত ছাড়াও পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী, নৃত্যশিল্পী ও রাজ্যসভার সাংসদ সোনাল মানসিং, কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, পার্নো মিত্র, কল্যাণ চৌবে, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্টজনরা সই করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, "বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা একটা খোলা চিঠি আমাদের অবাক করেছিল। ৪৯ জন 'স্বঘোষিত অভিভাবক' এবং সমাজ ও দেশের 'স্বঘোষিত রক্ষক' বিশেষ কিছু বিষয়ে নিজেদের চিন্তার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই চিঠি দেখেই তাঁদের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা বোঝা যাচ্ছে।" তাঁরা আরও জানিয়েছেন, "আমাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এই চিঠি একটি মিথ্যেকে প্রচার করার প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনদরদী কাজকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই চিঠি দেওয়া। যাঁরা এই খোলা চিঠিতে সই করেছেন, তাঁরা কেন সেই সময় চুপ ছিলেন, যখন নকশালদের হাতে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের প্রাণ গিয়েছে। তখন কেন চুপ ছিলেন, যখন কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্কুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তখন কেন চুপ ছিলেন, যখন দেশের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।" এই ধরণের ১১টি ঘটনাকে চিহ্নিত করে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সমস্ত বিষয়ে ওই ৪৯ জন বিশিষ্টজন চুপ ছিলেন। এই চিঠিতে কেন্দ্রের প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁদের মুখে। বিশিষ্টজনদের বক্তব্য, "মোদী সরকারের আমলে আমরা সবথেকে বেশি ব্যক্তি স্বাধীনতা দেখেছি। সরকারকে সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। সমালোচকদের জবাব দেওয়া হয়েছে কাজের মাধ্যমে। এই ধরণের ব্যক্তিস্বাধীনতা আগে কখনও দেখা যায়নি।" এর আগে বুধবার চিঠিতে নিজেদের ”শান্তিপ্রিয় ও গর্বিত ভারতবাসী” হিসেবে পরিচিতি দিয়ে ৪৯ জন লিখেছিলেন, ”প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাবলী এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)–র রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে ৮৪০ জন দলিতের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এবং একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে শাস্তির অনুপাত। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে ঘৃণাবশত আক্রমণের ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৫৭৯।” ঝাড়খণ্ডে গণপ্রহারে খুন হওয়া ২৪ বছরের যুবকের মৃত্যু সম্পর্কে বিবৃতি দিতে গিয়ে গত জুন মাসে সংসদে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ অথবা কেরল যেখানেই হিংসার ঘটনা ঘটবে, সবক্ষেত্রেই তা মোকাবিলা করা হবে একই পদ্ধতিতে। প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশিষ্টজনেরা চিঠিতে লেখেন, ”আপনি সংসদে এই ধরনের হত্যার সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়… আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এই ধরনের হিংসা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হোক।” ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিটি একটি প্ররোচনামূলক ‘ওয়ার ক্রাই’ বা রণহুঙ্কারে পরিণত হওয়াই যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ সেই বিষয়টির উল্লেখ করে উদ্বিগ্ন স্বাক্ষরকারীরা জানান, ধর্মের নামে এমন অনৈতিক আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। ”দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে রাম একটি পবিত্র নাম। দেশের সর্বোচ্চ আধিকারিক হিসেবে আপনার উচিৎ রাম নামের এই বিকৃতি বন্ধ করা।”

```