
শেষ আপডেট: 26 July 2019 07:06
এই চিঠিতে কেন্দ্রের প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁদের মুখে। বিশিষ্টজনদের বক্তব্য, "মোদী সরকারের আমলে আমরা সবথেকে বেশি ব্যক্তি স্বাধীনতা দেখেছি। সরকারকে সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। সমালোচকদের জবাব দেওয়া হয়েছে কাজের মাধ্যমে। এই ধরণের ব্যক্তিস্বাধীনতা আগে কখনও দেখা যায়নি।"
এর আগে বুধবার চিঠিতে নিজেদের ”শান্তিপ্রিয় ও গর্বিত ভারতবাসী” হিসেবে পরিচিতি দিয়ে ৪৯ জন লিখেছিলেন, ”প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাবলী এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)–র রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে ৮৪০ জন দলিতের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এবং একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে শাস্তির অনুপাত। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে ঘৃণাবশত আক্রমণের ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৫৭৯।”
ঝাড়খণ্ডে গণপ্রহারে খুন হওয়া ২৪ বছরের যুবকের মৃত্যু সম্পর্কে বিবৃতি দিতে গিয়ে গত জুন মাসে সংসদে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ অথবা কেরল যেখানেই হিংসার ঘটনা ঘটবে, সবক্ষেত্রেই তা মোকাবিলা করা হবে একই পদ্ধতিতে। প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশিষ্টজনেরা চিঠিতে লেখেন, ”আপনি সংসদে এই ধরনের হত্যার সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়… আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এই ধরনের হিংসা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হোক।”
‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিটি একটি প্ররোচনামূলক ‘ওয়ার ক্রাই’ বা রণহুঙ্কারে পরিণত হওয়াই যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ সেই বিষয়টির উল্লেখ করে উদ্বিগ্ন স্বাক্ষরকারীরা জানান, ধর্মের নামে এমন অনৈতিক আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। ”দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে রাম একটি পবিত্র নাম। দেশের সর্বোচ্চ আধিকারিক হিসেবে আপনার উচিৎ রাম নামের এই বিকৃতি বন্ধ করা।”