দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এবং সুপ্রিম কর্ট সম্পর্কে মন্তব্য করা নিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি তাঁকে বলেছিলেন, দু’দিনের মধ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করতে।
কিন্তু প্রশান্ত ভূষণ সাফ জানিয়ে দেন তিনি অনুতপ্ত নন। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট যযদি তাঁকে শাস্তি দেয় তাহলে তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। কয়েক দিন আগেই সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় ফেসবুক পেজে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রশান্ত ভূষণ। সেখানে তিনি মুক্ত কণ্ঠে কথা বলা ও গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তারপর আজ দেশের শীর্ষ আদালত এই মন্তব্য করে। তিনি এও বলেন, “আমি মনে করি না আমি আদালতের অবমাননা হয় এমন কিছু করেছি।”
এদিন আদালতে ওই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আবেদন করে বলেন, “প্রশান্ত ভূষণকে সতর্ক করা হোক, যাতে তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ আর না করেন।”
জবাবে বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, “আপনি বলুন কী করা উচিত। আমরা তাঁর কাছ থেকে অন্য বিবৃতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যা বলেছেন তা আরও বেশি অবমাননাকর।”
গত বৃহস্পতিবার আদালত বলে, “পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষ নেই যে ভুল করে না। আপনি কয়েকশ ভাল কাজ করতে পারেন। তা বলে আপনাকে ১০ টি অপরাধ করার লাইসেন্স দেওয়া যায় না।” সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ওই টুইট নিয়ে ‘ভেবে দেখার’ জন্য দু’দিন সময় দেয়। বিচারপতি বলেন, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে অনুশোচনা দেখা দিক। কিন্তু তা করেননি প্রশান্ত ভূষণ। তারপর আদালত এদিন এই মন্তব্য করল।
তবে প্রধানবিচারপতির ছবি সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছিলেন প্রশান্ত ভূষন, তার জন্য আগেই তিনি হলফনামা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতির মাথায় হেলমেট নেই কেন, এই প্রশ্ন তোলা তাঁর ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছিলেন ব৬৩ বছর বয়সী আইনজীবী। কারণ তিনি কোনও চলন্ত বাইকে ছিলেন না। একটি দাঁড় করিয়ে রাখা বাইকের উপরে বসেছিলেন। ওই হলফনামায় প্রশান্ত ভূষণ লিখেছেন, “আমার খেয়াল করা উচিত ছিল, বাইকটি দাঁড়িয়ে আছে। তার ওপরে বসতে গেলে হেলমেট পরার প্রয়োজন নেই। টুইটারে ওই কথা লেখার জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি।” অপর টুইট সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টের কাজের পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। সকলেরই বাকস্বাধীনতা আছে। আমি যে মন্তব্য করেছিলাম, তাতে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা উচিত নয়।”
তবে সুপ্রিম কোর্টের কাজের পদ্ধচতি সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেননি তিনি। বরং তিনি বলেন, "আমি সুপ্রিম কোর্টের কাজের পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। সকলেরই বাকস্বাধীনতা আছে। আমি যে মন্তব্য করেছিলাম, তাতে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা উচিত নয়।”