আপের জয় তো কংগ্রেসের কী, চিদম্বরমকে কটাক্ষ প্রণব-কন্যার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে দিল্লিতে। রাজধানীর মসনদে হ্যাটট্রিক করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একইসঙ্গে জমানত জব্দ হয়েছে ৬৩ জন কংগ্রেস প্রার্থীর। এর পরেও পি চিদম্বরমের মতো বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতারা বিজেপির হারকেই বড় করে দেখাতে চেয়েছেন।
শেষ আপডেট: 12 February 2020 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে দিল্লিতে। রাজধানীর মসনদে হ্যাটট্রিক করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একইসঙ্গে জমানত জব্দ হয়েছে ৬৩ জন কংগ্রেস প্রার্থীর। এর পরেও পি চিদম্বরমের মতো বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতারা বিজেপির হারকেই বড় করে দেখাতে চেয়েছেন। কংগ্রেসের দৈন্যদশা নিয়ে তেমন কোনও হেলদোল নেই তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের মতান্তর আর চার দেওয়ারলের মধ্যে আটকে রইল না। চলে এল হাটের মাঝে। চিদম্বরমের টুইটে গিয়ে তোপ দাগলেন দিল্লি কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়।
চিদম্বরম টুইট করে লেখেন, “আম আদমি পার্টি জিতেছে। মিথ্যর ফুলঝুরি হেরেছে। দিল্লিতে দেশের সব প্রান্তের মানুষ থাকেন। তাঁরা বিজেপির বিভাজন ও মেরুকরণের বিপজ্জনক রাজনীতিকে পরাস্ত করেছেন।”
ওই টুইটের থ্রেডেই চিদম্বরমকে ‘স্যর’ সম্বোধন করে শর্মিষ্ঠা লেখেন, “আপনার কাছে জানতে চাই, বিজেপিকে হারাতে আঞ্চলিক দলকে কি কংগ্রেস দায়িত্ব দিয়েছিল? যদি তা না হয় তাহলে আমাদের ভরাডুবি নিয়ে না ভেবে কেন আপের জয় নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে? আর যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে তো আমাদের (দিল্লি কংগ্রেস) ঝাপ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুই নেতানেত্রীর টুইট যুদ্ধেই স্পষ্ট কংগ্রেসের ভিতরের অবস্থাটা ঠিক কী। যে কংগ্রেস ১৫ বছর দিল্লি শাসন করেছে, তার জনসমর্থন ৫ শতাংশের নীচে নেমে আসবে, তা অনেকের কল্পনাতেও ছিল না। দিল্লিতে মূল লড়াই যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সঙ্গে বিজেপির, সেই ইঙ্গিত সব বুথ ফেরত সমীক্ষাতেই মিলেছিল। তা বলে কংগ্রেসের এমন ফল হবে সেটা মনে হয় ভাবা ছিল না শতাব্দী প্রাচীন দলের।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সঙ্গে জোট গড়ে দিল্লিতে ভোট লড়েছিল কংগ্রেস। লক্ষ্য ছিল লালু প্রসাদ যাদবের দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে দিল্লির বিহারী ভোটারদের মন পাওয়া। জোট শরিক আরজেডিকে ৪টি আসন ছেড়ে দিয়ে, ৬৬ আসনে প্রার্থী দেয় হাত। কংগ্রেসের তিন প্রার্থী– গান্ধীনগর থেকে অরবিন্দর সিং লাভলি, বাদলি থেকে দেবেন্দ্র যাদব এবং কস্তুরবা নগর থেকে অভিষেক দত্ত জমানত রক্ষা করতে পেরেছেন। বাকিরা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া টাকা আর ফেরত পাবেন না।