দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারত রত্ন সম্মান পেলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়ার ব্যাপারে গত ২৫ জানুয়ারি ঘোষণা করেছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তথা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে সেই সম্মানে সম্মানিত করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্ম বিভূষণ দেওয়া হয়েছিল প্রণববাবুকে।
এরই পাশাপাশি এ দিন মরনোত্তর ভারত রত্ন দেওয়া হয়েছে প্রয়াত গায়ক ভূপেন হাজারিকা ও প্রয়াত সমাজসেবী নানাজি দেশমুখকে।
প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবন প্রণববাবুর। বীরভূমের কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে উঠে আসা খর্বকায় এই মানুষটির সেই যাত্রাপথ অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিতে ঠাসা। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জমানাতেই গোটা বিশ্বের সেরা পাঁচ অর্থমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে ৯১ সালে কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক বন্টনের সূত্র নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ছিল অন্যতম। সেই সূত্রকে এখনও গ্যাডগিল-মুখার্জি সূত্র বলা হয়।
https://www.youtube.com/watch?v=hUXvnoOHlYU&feature=youtu.be
কেন্দ্রে ইউপিএ জমানার দুটি মেয়াদেই প্রণববাবুর ভূমিকা ছিল অনন্য। অনেকে বলতেন, অঘোষিত নম্বর টু হলেও, আদতে সরকার চালিয়েছেন প্রণববাবুই। এমনিতেই দলমত নির্বিশেষে প্রণববাবুর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ছিল ঈর্ষা করার মতোই। প্রথম ইউপিএ জমানায় বামেদের সঙ্গে সমন্বয় করা আর দ্বিতীয় জমানায় (২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত) শরিক দলগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার তিনিই ছিলেন সেতু।
রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হল এ দিন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র অমিত শাহ থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা সকলেই উপস্থিত ছিলেন। প্রণববাবুর মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়কেও দেখা যায় প্রথম সারিতেই বসে রয়েছেন। তবে গান্ধী পরিবারের কাউকেই এ দিনের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।