দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোদ্দর ভোটের কথা মনে পড়ে! নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী বলতেন, কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়বেন!
কাট টু নভেম্বর ২০১৯। ভারত কংগ্রেস মুক্ত হওয়া পরের কথা, সর্বভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে ফ্যাকাশে হতে শুরু করেছে গেরুয়া রঙ। কোথাও সন্মুখ সমরে কংগ্রেসের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে বিজেপি। আর যেখানে সনিয়া-রাহুল তাদের হারাতে পারেননি, সেখানে মোদী-অমিত শাহকে রুখে দিতে অনুঘটকের ভূমিকা নিচ্ছেন। এমনকি রাজনৈতিক ভাবে ভিন্ন মেরুতে থাকা দলকেও সমর্থন দিতেও দ্বিধা করেনি দশ নম্বর জনপথ এবং সে ক্ষেত্রে ফর্মুলাটা বাংলায় সিপিএম-কংগ্রেস জোটের মতোই। তৃণমূলকে হারাতে পুরনো বিরোধ ঝেড়ে ফেলে সোমেন মিত্র-সূর্যকান্ত মিশ্ররা যেমন এককাট্টা।
মোদীর প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে প্রথমে পাঞ্জাবে ক্ষমতাচ্যূত হয় এনডিএ। পরে গত বছর ডিসেম্বর মাসে আরও তীব্র ধাক্কা খায় বিজেপি। হিন্দি বলয়েই বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে যায়। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং রাজস্থানের ভোটে হারতে হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের। তারপর লোকসভা ভোটে বিজেপির বিপুল জয় দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, ওটা ছিল ব্যতিক্রম। একাই ৩০০ পেরিয়ে যাওয়া বিজেপিকে আর কে ধরবে! কিন্তু সেই ধারণায় জল ঢেলে দিয়েছে অক্টোবরের শেষে হওয়া হরিয়ানা আর মহারাষ্ট্রের নির্বাচন। হরিয়ানায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অর্জন করতে পারেনি বিজেপি। আর মহারাষ্ট্রেও পুরনো শরিকের সঙ্গে মতান্তরের জেরে ক্ষমতা হাতছাড়া হল।
সর্বভারতীয় মানচিত্রে এখনও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি তথা এনডিএ। গুজরাত, বিহার, কর্নাটক, অসম ও উত্তরপ্রদেশ। হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলির রাজনৈতিক ওজন সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তেমন অবশ্যই নয়।
পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ২০১৯-এর নভেম্বরে যে ম্যাপটা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যেও জল রয়েছে। তাঁদের মতে, কর্নাটক, মণিপুর এবং গোয়ার মতো রাজ্যগুলিতেও সরকার গড়তে নীতি-নৈতিকতার কোনও বালাই ছিলনা বিজেপির। ওই রাজ্যগুলিতে শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরেদের মতো ক্ষুরধার মস্তিষ্কের বিরোধী নেতা নেই বলে এখনও টিকে রয়েছে গেরুয়া দল। না হলে সেগুলোও থাকত না।
তবে সন্দেহ নেই, গত দু’বছরে উত্তর-পূর্বে একচেটিয়া শক্তি বেড়েছে বিজেপির। ত্রিপুরায় কমিউনিস্ট সরকার হঠিয়ে দেওয়া বা অসমে সরকার গড়েছে গেরুয়া শিবির। মানচিত্রতেও পরিষ্কার, গোটা উত্তর-পূর্বই প্রায় গেরুয়া হয়ে গিয়েছে। যা চিরাচরিত ভাবে বিজেপির ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন, জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদীর মুখ দেখিয়ে বিজেপি ভোট পেলেও রাজ্য স্তরের নির্বাচনে মোদী-ম্যাজিক করছে না। একের পর এক নির্বাচনে সেটাই স্পষ্ট হয়েছে। তার চেয়ে বরং বিজেপির রাজ্য নেতাদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছেন কংগ্রেসের আঞ্চলিক নেতারা। কোথাও তিনি কমলনাথ, কোথাও অশোক গেহলট বা কোথাও ভূপেশ বাঘেল।
পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, মহারাষ্ট্রে যে বিপর্যয় হল বিজেপি-র তার পর লাগোয়া কর্নাটকেও এখন বিপদসীমায় এসে দাঁড়াল ইয়েদুরাপ্পা সরকার। ৫ ডিসেম্বর কর্নাটকে ১৫ টি আসনে উপনির্বাচন হবে। তার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিততে না পারলে কর্নাটকেও সংখ্যালঘু হয়ে পড়তে পারে বিজেপি সরকার। আবার ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোট আসন্ন। মহারাষ্ট্র ভোটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সেখানেও।