দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সকাল সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত জনতা কার্ফু ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা ওই কার্ফুতে অংশ নেবেন না তাঁদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচির আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিন মোদী বলেন, “চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য ব্যক্তি, সাফাইকর্মী, সংবাদমাধ্যমের কর্মী—এইরকম জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ ওই জনতা কার্ফুতে অংশ নিতে পারবেন না। তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে বিকেল পাঁচটা থেকে পাঁচটা পাঁচ মিনিট পর্যন্ত বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টা বাজান, থালা বাজান, হাততালি দিন।” এমনকি চিকিৎসকদের ফোন করে ধন্যবাদ জানানোর কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে প্রশাসনের তরফে সাইরেন বাজানোর আবেদনও জানিয়েছেন মোদী।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল অভিযোগ করেছে মোদী মহামারী নিয়েও রাজনীতি করেছেন। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘণ্টা বাজানোর কথা বলে মোদী আসলে হিন্দুত্ববাদের কথাই বলতে চেয়েছেন। মহামারী নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণেও তাঁর আরএসএস, বিজেপির রাজনীতি বেরিয়ে পড়েছে। ভেবেছিলাম দেশের প্রধানমন্ত্রী দিশা দেবেন। কিন্তু দেশের মানুষ সেই দিশা পেল না।”
সুব্রতকে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপিও। রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “সুব্রতদার কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে ওঁর বয়স হচ্ছে। এই তো ক’দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে ক্যা ক্যা করলেন। ওটা কি হিন্দুত্বের ঘণ্টা ছিল? দিদিমণি ব্রিগেডে সিপিএমের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলেন। ওটা কি হিন্দুত্বের ঘণ্টা ছিল? আসলে ওঁরা এখন সবকিছুতেই বিজেপি-আরএসএস দেখতে পান।”
এদিন সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “আপনি মনে করছেন আপনি ভাল আছেন, আপনার কিছু হয়নি, তাই আপনি এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—এটা করবেন না। এটা করা মানে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে অন্যায় করছেন।”
করোনার ভয়াভয়তা কত তাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গোটা বিশ্ব গভীর সঙ্কটে পড়ে গিয়েছে। গোটা মানবজাতিকে মহা সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এত দেশ প্রভাবিত হয়নি যা করোনায় হয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে সংকল্প আর ধৈর্যকেই মূল মন্ত্র করার আবেদন জানান মোদী।