দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের চাষি পেহলু খানের খুনের ঘটনায় স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন দল গঠন করেছিল রাজস্থান সরকার। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তে একাধিক গাফিলতি আছে বলেই রিপোর্ট জমা দিল সিট। বুধবার রাজস্থান পুলিশের কাছে এই রিপোর্ট জমা দিয়েছে তদন্তকারী দল।
রাজস্থান পুলিশের ডিজি ভূপেন্দ্র সিং-এর কাছে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে ডিজি জানিয়েছেন, রিপোর্টে যা যা লেখা রয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।
১৪ অগস্ট আলোয়ারের সেশনস কোর্ট পেহলু খান খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছ'জনকেই মুক্তি দেয়। তারপরেই রাজস্থান সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট তিন সদস্যের একটি স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেন। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, পুলিশের তদন্তে কোনও গাফিলতি আছে কিনা তা খুঁজে বের করা।
সিট-এর তরফে জানানো হয়েছে, যে চারজন তদন্তকারী অফিসার এই ঘটনার তদন্ত করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের তদন্তেই গাফিলতি রয়েছে। প্রথম তদন্তকারী অফিসার ঘটনা ঘটার তিন দিন পর ঘটনাস্থলে যান। তিনি ফরেন্সিক দলকে কোনও খবর দেননি। যে গাড়িতে করে পেহলু খান গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই গাড়ির কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষারও নির্দেশ দেননি তিনি। সব মিলিয়ে তদন্তে ২৯টি ভুল তিনি করেছিলেন বলেই জানিয়েছে সিট।
সিট জানায়, দ্বিতীয় তদন্তকারী অফিসার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তৃতীয় তদন্তকারী অফিসার কোনও অভিযুক্ত বা সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করেননি। চতুর্থ তদন্তকারী অফিসার কোনও রকমের প্রমাণ ছাড়াই ছয় দোষীকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে জয়পুর দিল্লি ন্যাশনাল হাইওয়ের উপর গরু পাচারের অভিযোগে ৫৫ বছরের পেহলু খানকে মারধর করা হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযোগ করে, গোহত্যার জন্যই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গরুগুলিকে। এই বলে উত্তেজিত জনতার হাতে বেধড়ক মার খান পেহলু খান। দু'দিন পরে একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় পেহলুর।
এই ঘটনার পর বিপিন যাদব, রবীন্দ্র যাদব, কালু রাম যাদব, দয়ানন্দ যাদব, যোগেশ খাতি ও ভিম রাথিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু আলোয়ারের আদালত ছ'জনকেই মুক্তি দেয়। তারপরেই সিট জানিয়ে দিল, তদন্তে অনেক গাফিলতি ছিল।