দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভারতে করোনা সংক্রমণ শিখর পেরিয়ে গিয়েছে বলেই দাবি করেছে কেন্দ্রের নিযুক্ত প্যানেল। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই জানিয়েছে তারা। কিন্তু তার মধ্যেই একটা আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে প্যানেল। সামনে পুজোর মরসুম। আর এই সময় সতর্ক না হলে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলেই জানিয়েছে তারা। এমনকি এই সময় মাসে ২৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে বলেই জানিয়েছে এই প্যানেল।
কেন্দ্রের এই প্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে, সামনেই শীতের মরসুম আসছে। এমনিতেই ঠান্ডায় এই ভাইরাস অনেক বেশি সক্রিয় হয়। তার মধ্যে উৎসবের মরসুমও আসছে। এই সময় সতর্ক না হলে সংক্রমণ হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। সেরকম হলে মাসে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণ ৮০ হাজারের বেশি ফের বাড়তে পারে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্যানেলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে দেশের মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষের মধ্যেই ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। বাকিদের মধ্যে এখনও ইমিউনিটি তৈরি হতে সময় লাগবে। তাই এই সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতেই লকডাউনের প্রয়োজন রয়েছে। বাকি জায়গায় কাজকর্ম স্বাভাবিক ভাবেই চলতে পারে। কিন্তু বিশাল পরিমাণে জমায়েত হলে তার একটা খারাপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যেমন ২২ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেরলে ওনাম উৎসব চলায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। যেখানে সেপ্টেম্বর মাসের আগে কেরলে সংক্রমণের হারে ২২ শতাংশ হ্রাস দেখা গিয়েছিল, সেখানে এই উৎসবের পরে সংক্রমণে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে নিয়োগ করা এই প্যানেলের সদস্যরা মূলত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর এবং আইআইটির বিশেষজ্ঞ। তাঁরা অবশ্য আরও জানিয়েছেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ কমছে। আগে দিনে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ দৈনিক আক্রান্ত হত। কিন্তু ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। সম্প্রতি তা ৬০ হাজারের ঘরে রয়েছে। রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ হাজার ৮৭১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে দু’মাস পরে দেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৮ লাখের নীচে নেমেছে।
প্যানেলের মতে, যদি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয় তাহলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে আসতে অবশ্য ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখের কাছাকাছি হবে। অর্থাৎ আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভারতে আরও ৩০ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হবেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।