দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের বিমান নিজেদের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়তে দেয়নি পাকিস্তান। এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যাওয়ার আগে ভারত ফের পাকিস্তানের কাছে অনুরোধ জানায়, তাদের আকাশসীমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিমান উড়তে দেওয়া হোক। পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনার পরে এসম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে। বুধবার সন্ধেবেলা পাকিস্তানের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মোদীর বিমানকে পাক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বুধবার পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সাফ জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে পাক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না পাকিস্তান। এই বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাক বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, "পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র নিন্দে করছি। দু'সপ্তাহের মধ্যে দু'বার দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বিমান ওড়ার অনুমতি দিল না তারা। এটা কোনও দেশ করে না।" বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানিয়েছেন, "পাকিস্তানের উচিত নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবা। এ ভাবে অন্য দেশের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখিয়ে তারপর গোটা বিশ্বের সামনে ভালো সাজার চেষ্টা করে কোনও লাভ হবে না তাদের।"
ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করার পরে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং ভারতের হাইকমিশনারকে দেশে ফেরত পাঠায়। একইসঙ্গে নিজেদের বায়ুসীমা ভারতের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করতে থাকে।
পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফাওয়াদ হুসেন টুইট করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বায়ুসীমা ভারতের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের যে সড়কের ওপর দিয়ে ভারতের নানা পণ্য আফগানিস্তানে যায়, তাও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। শেষে ফাওয়াদ হুসেন বলেছিলেন, মোদী ব্যাপারটা শুরু করেছেন, আমরা শেষ করব।
এর আগে ভারতের বায়ুসেনা বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে বোমা ফেলার পর পাকিস্তান ঘোষণা করেছিল, ছ’মাস তাদের আকাশসীমা দিয়ে ভারতের কোনও বিমানকে উড়তে দেওয়া হবে না। তখন বহু বিমানকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছিল। ফলে জ্বালানি প্রয়োজন হচ্ছিল বেশি। অনেক বিমান মাঝপথে থেমে নতুন করে জ্বালানি ভরতে হচ্ছিল। পরে আকাশপথে পাকিস্তানের ১১ টি রুটের মধ্যে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানের জন্য খুলে দেওয়া হয়।