দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালাকোটে জইশ জঙ্গি শিবিরে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের আকাশসীমা। সেই ঘটনা এতদিন কেটে যাওয়ার পরেও যতদিন না পাক সীমান্ত থেকে ভারতীয় বায়ুসেনা নিজেদের যুদ্ধবিমান সরাচ্ছে, ততদিন বাণিজ্যিক বিমানের জন্য পাক আকাশসীমা খোলা হবে না বলে জানিয়ে দিল পাক বিমানমন্ত্রক। বিমানমন্ত্রকের সচিব শাহরুখ নুসরত বিধানসভায় এ কথা জানিয়েছেন।
বিমান মন্ত্রকের সচিব তথা অসামরিক বিমানসংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল শহরুখ নুসরত এ দিন সেনেট স্ট্যান্ডিং কমিটিকে জানিয়েছেন, পাক বিমান মন্ত্রকের তরফে ভারতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতদিন না সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন অবধি পাক আকাশসীমা ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, “ভারত সরকার আমাদের কাছে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু আমরা আমাদের কথা বলেছি। ভারতকে প্রথমে যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিতে হবে।” এই আকাশসীমা বন্ধ করার পর থেকে ভারত থেকে অনেক বিমানকে যাত্রাপথ পাল্টে যাত্রা করতে হচ্ছে।
এ দিন শাহরুখ আরও বলেন, “ভারতের তরফে দাবি করা হচ্ছে ভারত নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে। কিন্তু এখনও তাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিমানগুলিকে বাতিল করেই রাখতে হয়েছে। এর ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।"
গত মাসে কিরঘিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য প্রশানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে পাক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু মোদীর বিমান পাক আকাশসীমা ব্যবহার করেনি। একই ভাবে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বিমানও পাক আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।
কিন্তু এই আকাশসীমা বন্ধ থাকায় একটা বড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতকে। অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, পাক আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ঘুরপথে যেতে হওয়ায় এখনও পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।