দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে কেরলের কোঝিকোড়ে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুবাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমান আইএক্স- ১৩৪৪। ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায় বিমানটি। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে বিমানের দু’জন পাইলটও রয়েছেন। এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দুর্ঘটনার পরেই টুইট করে নিজের মনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। টুইটে তিনি বলেন, “কোঝিকোড়ের বিমান দুর্ঘটনায় খুব কষ্ট পেয়েছি। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। প্রার্থনা করি আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নজির সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আধিকারিকরা রয়েছেন। সব রকমের সাহায্য করা হচ্ছে।” জানা গিয়েছে কেরলের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে সব রকমের সাহায্য করা হবে কেরল সরকারকে। শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
https://twitter.com/narendramodi/status/1291775276599263233?s=19
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই কাজ উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছিল। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবাররের প্রতি কেরল সরকারের গভীর সমবেদনা রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী, ১০ সদ্যোজাত, দু’জন পাইলট ও চারজন বিমানকর্মী ছিলেন। করোনা আবহে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর কাজ করছিল বিমানটি। দুর্ঘটনার পরেই ওই বোয়িং ৭৩৭ দু’টুকরো হয়ে যায়।
সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বিমান থেকে সবাইকে বের করা সম্ভব হয়। অন্তত ১১২ জন আহতকে কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরম জেলার একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসসাইটে জানা গিয়েছে, বিমানটি অনেকক্ষণ ধরে অবতরণের চেষ্টা করছিল। বিমানবন্দরের মাথায় চক্কর খেতে খেতে অন্তত দু’বার অবতরণের চেষ্টা করেও তা সফল হয়নি। তৃতীয়বার অবতরণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরে অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, বৃষ্টি হওয়ায় বিমানটি রানওয়ে নম্বর ১০ অতিক্রম করে গিয়ে ৩৫ ফুট নীচে একটি খাদে পড়ে যায়। তারপরেই সেটি দু’টুকরো হয়ে যায়। তবে ভাগ্যিস পুরো বিমানে আগুন ধরে যায়নি। নইলে আরও বড় দুর্ঘটনা হত বলেই জানিয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে জানানো হিয়েছে, শারজা ও দুবাইয়ে হেল্প সেন্টার চালু করা হয়েছে। আহতদের সব রকমের দেখভাল করা হবে। এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখবে তারা।