
শেষ আপডেট: 27 January 2021 07:17


পূর্ণমাসি জানির নাম অনেকেরই অজানা। প্রচারের আড়ালে থাকতেই ভালবাসেন। তাঁর জীবনের অনেক ঘটনাই নাকি বেশ রহস্যময়। ডালাপাড়া গ্রামের আদিবাসী ঘরে জন্ম ১৯৪৪ সালে। খুব কম বয়সে বিয়ে হয়েছিল পূর্ণমাসির। ছোট থেকেই অপুষ্টিতে ভুগতেন। বাল্যবিবাহ ও কম বয়সে সন্তান ধারণের কারণে শরীর ভেঙে পড়েছিল তাঁর। একের পর এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল। মানসিকভাবেও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন পূর্ণমাসি। সংসার ছেড়ে স্বামীকে নিয়ে আধ্যাত্মিক পথেই পা বাড়িয়েছিলেন।
শোনা যায়, ১৯৬৯ সালে তাদিসারু নামে একটি পাহাড়ের ওপর দীর্ঘসময় ধরে তপস্যা করেছিলেন পূর্ণমাসি। সে সময় কিছু শক্তিও নাকি পেয়েছিলেন তিনি। এরপরেই জীবন পাল্টে যায় তাঁর। লোকমুখে শোনা যায়, পূর্ণমাসি কুই ভাষা ছাড়া কিছু বলতে পারতেন না। লেখাপড়া তো দূরের কথা। কিন্তু তপস্যা সেরে ফেরার পরে ওড়িয়া, সংস্কৃতে ভাষাতেও তাঁর পাণ্ডিত্য দেখে চমকে যান সকলে। কীভাবে সমাজ ও সংসারের গূড় তত্ত্বকথা নিয়ে সংস্কৃতেও গান বাঁধেন পূর্ণমাসি সে রহস্য এখনও অজানা। তবে ভক্তির আড়ালে তাঁর গান নাকি সমাজের অন্যায় অবিচারের কথা তুলে ধরে। নারী ও শিশু সুরক্ষার কথা বলে। বলি প্রধার বিরুদ্ধেও গান বেঁধেছেন পূর্ণমাসি। হত্যা, ঘৃণা, লোভ-লালসা থেকে মুক্তির পথ দেখায় তাঁর প্রতিটি গান।
২০০৬ সালে ওড়িয়া সাহিত্য আকাদেমি থেকে পুরষ্কার পান পূর্ণমাসি। ২০০৮ সালে দক্ষিণ ওড়িয়া সাহিত্য পুরষ্কার দেওয়া হয় তাঁকে। পূর্ণমাসির শিষ্য বানোজ কুমার রায় বলেছেন, আদিবাসী সমাজে পূর্ণমাসি জানির প্রভাব বিরাট। তাঁকে একরকম ভগবানের দূত বলেই মানে এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার পূর্ণমাসি। স্থানীয় আদিবাসী এলাকায় মুসলিম, খ্রিস্টানদের মধ্যে বিভেদ মেটাতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। নারী ও শিশু শিক্ষা নিয়ে প্রচার করেন তিনি। ৯৮ বছরের পূর্ণমাসি গত সাত দশক ধরে এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। মেয়েদের ওপর অত্যাচারের খবর পেলেও ছুটে যান তিনি। কন্ধমলে সমাজ সংস্কারের এক গুরুদায়িত্ব পালন করছেন পূর্ণমাসি জানি।