দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, লকডাউনের পর থেকে ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবারের রোজগার কমেছে। কোনও রকমের সাহায্য ছাড়া তাঁদের পক্ষে বেশিদিন সংসার চালানো মুশকিল। মার্চ মাস থেকে ভারতে ১০ কোটির বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে এই গবেষণা।
এই গবেষণা চালিয়েছে শিকাগো বুথ’স রুস্টান্ডি সেন্টার ফর সোশ্যাল সেক্টর ইনোভেশন নামের একটি সংস্থা। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি প্রাইভেট নামের একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কথা জানিয়েছে তারা। এপ্রিল মাস থেকে ভারতের ২৭ রাজ্যের ৫৮০০ বাড়িতে সার্ভে করে পাওয়া গিয়েছে এই তথ্য।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “লকডাউনের আগে মাথাপিছু রোজগার, লকডাউনের প্রভাব এবং তার ফলে বিভিন্ন সংস্থার তরফে সাহায্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটির বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা বেশিরভাগই দৈনিক মজুরি ও চুক্তিভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
এই গবেষণায় জানা গিয়েছে, হিন্দু ও মুসলিম দুই ধর্মের মানুষই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবথেকে বেশি আর্থিক ক্ষতি যে রাজ্যগুলির হয়েছে, সেগুলি হল, ত্রিপুরা, ছত্তীসগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও হরিয়ানা। এই গবেষণা করে রিপোর্ট দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো বুথ স্কুল অফ বিজনেসের অর্থনীতির অধ্যাপক মেরিন বারট্রান্ড, সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি প্রাইভেট-এর চিফ ইকনমিস্ট কৌশিক কৃষ্ণণ ও প্যারেলমান স্কুল অফ মেডিসিনের এক অধ্যাপক।
এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৪ শতাংশ পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ, যে তারা কোনও সাহায্য না পেলে এক সপ্তাহের বেশি নিজেদের জীবনধারণ করতে পারবে না। ভারতে রোজগারের একটা পরিমাপ করে এই আর্থিক ক্ষতির একটা তালিকাও করা হয়েছে। সেটি হল-
- যাঁদের রোজগার মাসে ৩৮০১ টাকার কম তাঁদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
- যাঁদের রোজগার মাসে ৩৮০১ টাকা থেকে ৫৯১৪ টাকা তাঁদের মধ্যে ৯২ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
- যাঁদের রোজগার মাসে ৫৯১৪ টাকা থেকে ৮১৪২ টাকা তাঁদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
- যাঁদের রোজগার মাসে ৮১৪২ টাকা থেকে ১২৩৭৪ টাকা তাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
- যাঁদের রোজগার মাসে ১২৩৭৪ টাকা থেকে ১,০১,৯০২ টাকা তাঁদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ পরিবারের রোজগার কমেছে।
এই তথ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেসব পরিবারের মাসিক রোজগার বেশি, তাঁদের ক্ষতি কম হয়েছে। তার কারণ হল, তাঁরা সরকারি চাকরি বা অন্য কোনও স্থিথিশীল কাজে যুক্ত। ফলে এই সময়ের মধ্যেও কাজ চালিয়ে রোজগার করতে তেমন সমস্যা হয়নি তাঁদের। কিন্তু যাঁদের প্রতিদিনের হিসেবে কিংবা চুক্তির হিসেবে কাজ, তাঁদের সমস্যা সবথেকে বেশি হয়েছে।