দ্য ওয়াল ব্যুরো: মে মাসের গোড়ায় জানা গিয়েছিল আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুয়ের কথা। অসমে প্রায় আড়াই হাজার শূকরের মৃত্যু হয়েছিল চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু তিন সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই তা পৌঁছে গেল ১৫ হাজারে।
বুধবার অসমের পশুপালনমন্ত্রী অতুল বোরা সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ১৫ হাজার ৬০০ শূকরের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে অসম সরকারের। তবে করোনাভাইরাসের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
ভোপালের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হাই সিকিউরিটি অ্যানিমেল ডিজিসেস-এর তরফে নমুনা পরীক্ষার পর বলা হয় আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হচ্ছে শূকরদের। হত্যা না করে কী ভাবে সংক্রমণ রোখা যায় তা নিয়ে শুরুর দিকে ভাবনাচিন্তা চললেও এদিন অসমের পশুপালন মন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট এলাকা ধরে শূকর হত্যা করতে হবে। না হলে সংক্রমণ রোখা যাবে না।
আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়নি এমন শূকরদের কী ভাবে আলাদা করে রাখা যায় তারও পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছে অসম সরকার। লকডাউনের ফলে শূকর চালান বন্ধ থাকায় অসম সরকার শুরুতে ভেবেছিল সংক্রমণ নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু দেখা গেল তিন সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সেই সংক্রমণ নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে নেই। তা ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক জেলায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই রোগ কি শূকরের শরীর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে? সেই সম্ভাবনা কতটা? অসমের পশুপালন মন্ত্রী সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, শূকরের শরীর থেকে মানব শরীরে রোগ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সংক্রমণ নেই এমন এলাকায় শূকরের মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে শূকর চাষে আরও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অতুল বোরা। চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে পশুপালন ! দফতরের তরফে। সব মিলিয়ে কোভিডের সঙ্গে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে অসমে।