দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ রুখতে এর আগে ‘ফাইভ টি’ প্ল্যানের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার ‘অপারশন শিল্ড’এর কথা ঘোষণা করলেন তিনি। কেজরিওয়াল জানিয়ে দেন রাজধানীর করোনা হটস্পটগুলিতে চালু হবে এই প্রোগ্রাম।
এই অপারেশন শিল্ড কী সেটাও ভাল করে বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্ড-এর ইংরেজি বানানের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে একটা করে কাজের কথা বলা হয়েছে। সেগুলি হল, সিলিং, হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন অ্যান্ড ট্র্যাকিং, এসেনশিয়াল সাপ্লাই, লোকাল স্যানিটাইজেশন এবং ডোর টু ডোর চেকিং।
কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লিতে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ২১টি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, এই জায়গাগুলিকে সিল করে দেওয়া হবে। বাড়ি থেকে কেউ বেরতে পারবেন না। এটা হল সিলিং।
এই এলাকার প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কাউকে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। যাঁদের সংক্রমণ হয়েছে তাঁদের আইসোলেশনে রাখা হবে। কারও মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা ট্র্যাক করে দেখা হবে। তবে এই সময়ে এইসব এলাকায় কারও যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবে সরকার। সবার বাড়িতে গিয়ে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুরো এলাকাকে জীবাণুমুক্ত রাখা হবে। সেই কাজ করবেন সাফাইকর্মীরা। প্রতিনিয়ত এই কাজ চলবে। এইসব এলাকার প্রতিটি বাড়িতে যাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন তাঁরা।
দিল্লিতে অপারেশন শিল্ডের আওতায় থাকা এলাকাগুলি হল, মালব্য বিহার, বেঙ্গলে মার্কেট, সঙ্গম বিহার, ময়ূর বিহার, দ্বারকা, নিজামুদ্দিন, বসুন্ধরা এনক্লেভ, দিলশাদ গার্ডেন, পাটপারগঞ্জ, দিনপুর ভিলেজ, জাহাঙ্গিরপুরী, কল্যাণপুরী, খিচরিপুর, পাণ্ডব নগর, কৃষণ কুঞ্জ এক্সটেনশন, ওয়েস্ট বিনোদ নগর, সীমাপুরী, দিলশাদ কলোনি ও ঝিলমিল কলোনি।
দু’দিন আগে ‘ফাইভ টি’ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারপরেই দিল্লির ২১টি হটস্পটকে সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এবার চালু করলেন অপারেশন শিল্ড।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লিতে ৬৬৯ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ইতিমধ্যেই ২১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।