
শেষ আপডেট: 5 September 2019 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার আদালত সিবিআই হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর পর হাতের পাঁচ আঙুল তুলে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেছিলেন, ‘ ইউ নো হয়াট ইজ ফাইভ পার্সেন্ট?’। বোঝাতে চেয়েছিলেন, জিডিপি-র হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। আর বৃহস্পতিবার বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে তিহাড় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বললেন, “দেশের অর্থনীতি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।”
জিডিপি কমছে। গাড়ি শিল্পে মন্দা। মারুতি ঘোষণা করেছে গুরুগ্রাম আর মানেসর প্ল্যান্টে দু’দিন উৎপাদন বন্ধ রাখবে। এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যখন অনেকেই সুর চড়াচ্ছেন, ভিডিয়ো বার্তায় তীক্ষ্ণ বাক্য বাণে বিঁধছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ঠিক একই ভাবে দেশের অর্থনীতি নিয়ে কেন্দ্রকে খোঁচা দিলেন চিদম্বরম।
কংগ্রেস প্রথম থেকেই বলছে, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে কেন্দ্র। কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একটি অনুষ্ঠানে বলেন, চিদম্বরমকে যে ভাবে গ্রেফতার করেছে সিবিআই, যেন তিনি জঙ্গি! পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি যত চিদম্বরমকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করতে চাইছে, চিদম্বরম তত হেফাজতে থেকেও বোঝাতে চাইছেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সর্বনাশ করে দিচ্ছে বিজেপি। একই সঙ্গে বার্তা দিতে চাইলেন, জেল জীবনের থেকেও তাঁর এখন বড় চিন্তা ভারতের অর্থনীতির এই করুণ দশা।
নতুন আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক রিপোর্টেই মোট জাতীয় উৎপাদন বিকাশের হার মাত্র পাঁচ শতাংশ। ব্রোকিং হাউস কোটাক ইকুইটিস গত মঙ্গলবার বলেছে, ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছরে জিডিপির বিকাশের হার ৫.৮ শতাংশ ছাড়াবে না। এই আর্থিক বছরতের শুরুতে ধরা হয়েছিল, জিডিপির বৃদ্ধি হবে ৬.৩ শতাংশ। কিন্তু প্রথম ত্রৈমাসিকে বিকাশের যে হার দেখা গিয়েছে, তাতে পুরো আর্থিক বছরে বিকাশ ছয় শতাংশে পৌঁছবে কিনা তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সমালোচনায় আগের দিন চিদম্বরম যোগ করেছিলেন পাঞ্জা। আর আজ বললেন দেশের অর্থনীতিই তাঁকে এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।