দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর শনিবার ১০০দিনের মাথায় কেরল সরকার জানাল, সেই রাজ্যে এখন করোনাভাইরাস সক্রিয় রয়েছে মাত্র ১৬ জনের শরীরে। তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই সঙ্গে কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক জানিয়েছেন, অ্যাকটিভ ১৬ জনের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
করোনা মোকাবিলায় কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকারের ভূমিকা প্রথম থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কেরল সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বিদেশ থেকে ফেরা মানুষজন। তাঁদের যথাযথ স্ক্রিনিং, টেস্টিং এবং আইসোলেশনের ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন। এর মাথায় রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা।
দোহা থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিমান কোচিতে নেমেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, কাতারে থাকা কেরলের শ্রমিকদের ফেরানো শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। তাঁদের মধ্যে কারও উপসর্গ রয়েছে কিনা সেটাই এখন চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে কেরল সরকার।
৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল কেরলে। ভারতে সেটাই ছিল প্রথম করোনা সংক্রমণের ঘটনা। তারপর এই ১০০ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। ৪৮৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যু হয়েছে চার জনের। এখন কোভিড-১৯ সক্রিয় রয়েছে ১৬ জনের শরীরে।
বিদেশ থেকে যাঁরা ফিরছেন, তাঁদের জন্য ২৮ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করেছে কেরল। যাঁদের বাড়ি স্পর্শকাতর এলাকায় তাঁদের সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে অধিকাংশই থাকবেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে তাঁদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলবে। কোনওভাবেই বাইরে বেরোতে দেওয়া হবে না। খাবার, ওষুধ থেকে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বাড়িতে পৌঁছে দেবে সরকার। কেরল সরকারের তরফে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই ঢিলেঢালা ভাব চলবে না। বিদেশ ফেরতদের মধ্যে থেকে যাতে নতুন সংক্রমণ না ছড়ায় সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ কেরলের।