দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভারতে ১০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি ১৫ জনে একজন অর্থাৎ ৬.৬ শতাংশ ব্যক্তি করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে। এমনটাই জানাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর। দেশের বিভিন্ন শহরে করা সেরো সার্ভের মাধ্যমে এই তথ্য পেয়েছে আইসিএমআর। মঙ্গলবার এই তথ্য সবাইকে জানিয়েছে ভারতের এই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
১১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে ভারতে প্রথম দেশজুড়ে সেরো সার্ভে করে আইসিএমআর। ১৭ অগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের সেরো সার্ভে করা হয় দেশজুড়ে। ভারতের ২১টি রাজ্যের ৭০টি জেলার মধ্যে থাকা ৭০০ গ্রাম ও ওয়ার্ডে এই সেরো সার্ভে করা হয়। ২৯ হাজার ৮২ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই একই জায়গায় প্রথম পর্যায়ের সার্ভে করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইসিএমআর।
দুটি পর্যায়ের সার্ভের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র বয়স বাদ দিয়ে সব প্যারামিটার একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের কাছ থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ বছরের বেশি বয়সীদের থেকে নমুনা নেওয়া হয়।
আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব জানিয়েছেন, “আমরা দ্বিতীয় সার্ভের সময় বয়সের সীমা ১৮ থেকে ১০ বছর করেছিলাম কারণ অল্প বয়সীদের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়ছে। সেরো সার্ভের মাধ্যমে আমরা কতজন ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন সেটা বুঝতে পারি। কিন্তু যাঁরা সংস্পর্শে এসেছেন তাঁরা যে প্রত্যেকেই আক্রান্ত হবেন তা নয়।”
ডক্টর ভার্গব আরও বলেন, “বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার প্রায় ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পরেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার ২ থেকে ৩ মাস অনেকের শরীরে সংক্রমণ থাকছে, এমনটাও দেখা যাচ্ছে।”
এই সেরো সার্ভেতে দেখা গিয়েছে শহরের বস্তি এলাকায় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবথেকে বেশি, প্রায় ১৫.৬ শতাংশ। এছাড়া শহরের অন্যান্য এলাকাতেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ৮.২ শতাংশ। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কম, প্রায় ৪.৪ শতাংশ। আরও দেখা গিয়েছে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি, প্রায় ৭.১ শতাংশ।
নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পাল জানিয়েছেন, “এই সার্ভে থেকে বোঝা যাচ্ছে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার প্রয়োজন সবথেকে বেশি।”
অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন সেরো সার্ভে থেকে বর্তমান ছবিটা ধরা পড়ে না। সফদরজং হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিনের প্রধান ডক্টর যুগল কিশোর জানিয়েছেন, “এর থেকে বর্তমান অবস্থা আমরা বুঝতে পারি না। তাই এই সার্ভের উপর নির্ভর করে কোনও পলিসি তৈরি করা উচিত নয়। অবশ্য যদি কেউ ভারতে সংক্রমণের ধরন বুঝতে চান, তাহলে গবেষণার ক্ষেত্রে এই সেরো সার্ভে খুব উপকারী।”