দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে খারাপ খাবার ও নিম্নমানের পরিষেবার অভিযোগ এসেছিল। অভিযোগ পেয়ে সেখানে পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় আদিবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী রেণুকা সিং। সেখানে গিয়ে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন মন্ত্রী। এমনকি তাঁদের ঘরে ঢুকিয়ে বেল্ট দিয়ে পেটানোরও হমকি দিয়েছেন তিনি। আর এই পুরো ঘটনায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
ছত্তীসগড়ের রাজধানী রাইপুর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুরের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে এই অভিযোগ ওঠে। দিলীপ গুপ্তা নামের বলরামপুরের এক বাসিন্দাকে দিল্লি থেকে ফেরার পর ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়। সেখানকার খাবার ও পরিষেবার মান নিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। একটি ভিডিও তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন ওই ব্যক্তি।
দিলীপ গুপ্তা আরও অভিযোগ করেন, ভিডিও তোলায় তাঁকে নাকি মারধর করেছেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আধিকারিকরা। এমনকি তাঁর ফোনও নাকি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ঘটনার পরেই রবিবার ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রেণুকা সিং। সেখানে গিয়ে দিলীপ গুপ্তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অন্যান্য ব্যক্তিদের থেকেও অভিযোগ শোনেন মন্ত্রী। তারপরেই তাঁর রাগের বিস্ফোরণ হয়।
ক্যামেরার সামনেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। কেউ যেন না ভাবেন আমাদের সরকার এখানে ক্ষমতায় নেই। আমরা ১৫ বছর ধরে সরকার চালিয়েছি। করোনাভাইরাসের জন্য অনেক খরচ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমি নিশ্চিত করব, মানুষ যাতে সেই সুবিধা পান। ভাববেন না, গেরুয়া পরা বিজেপি কর্মীরা দুর্বল।”
এরপরেই ক্যামেরার সামনেই চরম হুঁশিয়ারি দেন রণুকা সিং। তিনি বলেন, “অন্ধকার ঘরে নিয়ে গিয়ে বেল্ট খুলে কী ভাবে পেটাতে হয়, সেটা আমি খুব ভালভাবেই জানি।” যদিও ক্যামেরায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের কোনও আধিকারিককে বা অন্য কারও কথা শোনা যায়নি।
এই ঘটনার পরেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। একজন মন্ত্রী হয়ে কী ভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো কথা তিনি বলতে পারেন তা নিয়েই নেটিজেনরা সমালোচনা করছেন রেণুকা সিংয়ের।