দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিকটকে পরিচিত মুখ ছিলেন হরিয়ানার সোনালি ফোগাট। এই টিকটকে জনপ্রিয়তা দেখেই তাঁকে ২০১৯ সালে হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে বিজেপি। কিন্তু ভোটে হারতে হয় তাঁকে। অবশ্য তাতে দাপট খুব একটা কমেনি। ক্যামেরার সামনেই এক সরকারি আধিকারিককে চড়, জুতোর বাড়ি মারলেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার হিসারে। শুক্রবার স্থানীয় চাষিদের বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে সেখানকার এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট কমিটির এক সদস্য সুলতান সিংয়ের কাছে যান সোনালি ফোগাট। তাঁর অভিযোগের পরে নাকি এক আপত্তিকর মন্তব্য করেন সুলতান সিং। এতেই চটে যান বিজেপি নেত্রী।
প্রথমে সপাটে সুলতান সিংকে এক চড় মারেন সোনালি। তারপর জুতো খুলে একের পর এক বাড়ি মারিতে থাকেন তিনি। সুলতানকে দেখা যায়, নিজেকে বাঁচাতে বাঁচাতে বলছেন, নেত্রীর অভিযোগ তিনি শুনেছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তাতেও সোনালির রাগ কমেনি। বেশ কিছুক্ষণ মারার পর থামেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশকর্মীকে উদ্দেশ করে সোনালিকে বলতে শোনা যায়, ওই আধিকারিক ক্ষমা চেয়েছেন বলে কোনও লিখিত অভিযোগ তিনি করছেন না। এই পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। তারপরেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা হরিয়ানার মনোহর লাল খট্টর সরকারের কাছে আবেদন করেছেন ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। তিনি টুইট করে বলেন, “হিসারের বিজেপি নেত্রী এক সরকারি আধিকারিককে পশুর মতো মেরেছেন। সরকারি কর্মচারী হওয়া কি অপরাধ? খট্টর সাব কি কোনও পদক্ষেপ নেবেন? সংবাদমাধ্যম কি চুপ থাকবে?”
এর আগেও অবশ্য বিতর্কে জড়িয়েছেন সোনালি ফোগাট। নির্বাচনের প্রচারে উপস্থিত জনতাকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে বলেন তিনি। কিন্তু সেখানে উপস্থিত জনতার থেকে সেরকম প্রতিক্রিয়া না পাওয়ার পরেই রেগে যান তিনি। সোনালি বলেন, “আপনারা সবাই কি পাকিস্তান থেকে এসেছেন? ভারতীয় হলে ভারত মাতা কি জয় বলতে কী সমস্যা। আমি আপনাদের সবার জন্য লজ্জিত। আপনাদের মতো ভারতীয়দের জন্য। যারা রাজনীতির জন্য ভারত মাতা কি জয় বলতে ভয় পায়, তাদের ভোটের কোনও মূল্য আমার কাছে নেই।” ভোটে অবশ্য কংগ্রেসের কুলদীপ বিষ্ণোইয়ের কাছে হারতে হয় তাঁকে। কিন্তু তারপরেও যে তাঁর দাপট একটুও কমেনি তা শুক্রবারের এই ঘটনাতেই প্রমাণিত হল।