হাসপাতালের গেট বন্ধ, ভর্তি হতে আসা ৬৯ করোনা রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাইরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাসে করে নিয়ে আসা হয়েছে ৬৯ করোনা আক্রান্ত রোগীকে। অথচ হাসপাতালের গেট বন্ধ থাকায় বাইরেই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল তাঁদের। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা। মুখে মাস্ক ছাড়া অন্য কোনও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি
শেষ আপডেট: 25 April 2020 04:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাসে করে নিয়ে আসা হয়েছে ৬৯ করোনা আক্রান্ত রোগীকে। অথচ হাসপাতালের গেট বন্ধ থাকায় বাইরেই বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল তাঁদের। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা। মুখে মাস্ক ছাড়া অন্য কোনও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি এমনই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে।
জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা থেকে এটাওয়াহ জেলার সাইফাইয়ে উত্তরপ্রদেশ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল এই ৬৯ জনকে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বাসে করে তাঁদের সেখানে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু দেখা যায় হাসপাতালের গেট বন্ধ।
১১৬ কিলোমিটার বাসযাত্রা করে আসায় যথেষ্ট ক্লান্ত ছিলেন রোগীরা। তারমধ্যে ভর্তি হতে দেরি হচ্ছিল। তাই দেখা যায়, কেউ ফুটপাতে বসে পড়েছেন, কেউ এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছেন। কাউকে আবার বাসের মধ্যে থেকে জল ও খাবার খেতেও দেখা গিয়েছে। এই ৬৯ জনকে দেখার জন্য ছিলেন দু’জন পুলিশকর্মী। তাঁরাও বাসে করেই এসেছেন আগ্রা থেকে।
এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, পুলিশকর্মীদের ঠিকমতো প্রোটেকশন থাকলেও আক্রান্তদের মুখে মাস্ক ছাড়া আর কিছু নেই। পুলিশকর্মীরা আক্রান্তদের থেকে অনেকটাই দূরে দাঁড়িয়েছিলেন।
কিছুক্ষণ পরে ওই এলাকার থানার অফিসার ইন-চার্জকে সেখানে আসতে দেখা যায়। তিনি বেশ কিছুটা দূর থেকেই করোনা আক্রান্তদের নির্দেশ দিতে থাকেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখানেই থাকুন। আমি নিশ্চিত মেডিক্যাল টিম তাড়াতাড়ি এসে আপনাদের লিস্ট বানিয়ে ফেলবে। যা হওয়ার তা হয়েছে। কিন্তু আপনারা ঘুরে বেড়ালে এই সংক্রমণ আরও ছড়াবে। তাই এদিক-ওদিক যাবেন না। আপনাদের আগে থেকে কোনও তথ্য ছিল না। নইলে লিস্ট তৈরি হয়তে যেত। আপনারা হঠাৎ করেই চলে এসেছেন।”
এই ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করলেও যোগাযোগের সমস্যা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের ভাইস চান্সেলর ডক্টর রাজ কুমার। তিনি বলেন, “আমি কারও গাফিলতি এক্ষেত্রে বলতে পারি না, কারণ ওই রোগীদের বুধবার আসার কথা ছিল। যখন এত বেশি সংখ্যায় রোগীদের আনা হয়, তখন সঙ্গে করে তালিকা আনা হয়। কোন রোগী কী অবস্থায় রয়েছেন, তা সেই তালিকা দেখে আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও তালিকা ছিল না। যোগাযোগের সমস্যা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যে তাঁরা আসবেন, তার কোনও খবর আমরা পাইনি। তাই আমাদের যেতে দেরি হয়েছে। কিন্তু আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবাইকে ভর্তি করে নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে রোগীরা ঘুরে- বেড়িয়েছেন কিনা তার কোনও খবর আমি পাইনি।”